২০১৯-১১-১২ ১৬:৪৬ বাংলাদেশ সময়

বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ (১২ নভেম্বর) বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবাদানকারী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও'র উদ্যোগে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা সভা, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ও সচেতনতামূলক বিশেষ প্রচারাভিযান।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার  মতে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংক্রামক মৃত্যুর মধ্যে অন্তত: শতকরা ১৫ ভাগের মৃত্যুর কারণ হলো নিউমোনিয়া। জন্ম নেওয়া প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে চারটি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। সে হিসেবে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান ফর নিউমোনিয়া অ্যান্ড ডায়রিয়ার লক্ষ্য হলো- ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি এক হাজার জীবিত–জন্ম শিশুর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা তিনে নামিয়ে আনা।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউমোনিয়া হচ্ছে শিশুদের ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টিকারী একটি রোগ- যা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঠাণ্ডা ও ভাইরাসজনিত কারণে সংক্রমিত হয়ে থাকে।  

বাংলাদেশে একবছরে ৫ বছরের কম বয়সী ১২০০০ শিশুর মৃত্যু

বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের কম বয়সী আনুমানিক ১২০০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার হিসেবে বিশ্বে ১৪তম স্থান বাংলাদেশের। তবে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ নিউমোনিয়া নিয়ন্ত্রণের এক্ষেত্রে বহু গুণ এগিয়ে আছে।

এ প্রসঙ্গে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার রওশন আরা রেডিও তেহরানকে বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে তাদের মধ্যে রোগসংক্রমন ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশী হয়। শিশুর পুষ্টিহীনতা ও পরিবেশজনিত দূষণের কারণে এ রোগের আক্রমণ বেশী হয়।

তিনি মনে করেন, শিশুকে জন্মের পরপরই মায়ের বুকের দুধ দেয়া ও তাদের পুষ্টির দিকে খেয়াল রাখা ও পরিবেশের উন্নতি করা হলে নিউমোনিয়ার হাত থেকে অনেক শিশুকেই রক্ষা করা যাবে। 

উল্লেখ্য, ১৯৯০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুর হার ৬৭ শতাংশ কমে এসেছে। এটি খুবই উৎসাহদায়ক। এ ক্ষেত্রে টিকাদান কার্যক্রমের অনেক বড় অবদান রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাবিনা আশরাফী এক গোল টেবিল আলোচনায় জানিয়েছেন, নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুরোধে আইএমসিআইয়ের (ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব চাইল্ডহুড ইলনেস) বরাদ্দ খুবই স্বল্প। প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ১৯ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে আমরা কাজ করছি। এর মাঝেও আমরা গত বছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার সেবাদাতার দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আগামী অর্থবছরে আমরা আরও সাড়ে চার হাজার সেবাদাতার দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিতে পারব।

সাবিনা আশরাফী

তিনি জানান, ইউনিয়ন উপকেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত আইএমসিআই কর্নারের মাধ্যমে শিশু নিউমোনিয়ার সেবা দেয়া হয়ে থাকে। তবে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর অর্ধেকের বেশি শিশু রোগীকে স্বীকৃত সেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা হয় না। দরিদ্র অভিভাবকেরা প্রায়ই স্বীকৃত সেবা প্রতিষ্ঠানে না এসে নিকটবর্তী ওষুধের দোকান বা হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান। আবার সব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুবিধা নেই।

চিকিৎসকরা মনে করেন, সব ধরনের নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নীতিমালা অনুসরণ করা হয় না। ফলে রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়ে। এসব বিষয় সতর্ক থাকলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার কমে যাবে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), নাসিমা সুলতানা বলেছেন, শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। সবাইকে টিকাদান কর্মসূচির মধ্যে আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে। তবে, এখনো অনেক জায়গা আমাদের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। ভবিষ্যতে আমার দুর্গম এলাকার সবাইকে এ কর্মসূচির অধীনে আনতে পারব বলে আশা করছি।

তাছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলে ছয় হাজার মানুষের জন্য একটা কমিউনিটি ক্লিনিক। এসব অঞ্চলে সেবা নিশ্চিত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। একজন ইপিআই টেকনিশিয়ান সকালে বের হয়ে রাতে ফিরলেও খুব কমসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারেন। তিনি জানান, মায়েদের প্রসব–পূর্ব সেবা নিশ্চিত করতে পারলে অপুষ্টিসহ নানা সমস্যার সমাধান করা যাবে। এতে শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধ সহজ হবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য