২০১৯-১১-১৭ ১৮:০৪ বাংলাদেশ সময়
  • শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি
    শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আজ (রোববার) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে চিঠিটি পৌঁছে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পৌঁছে দিয়ে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন অপেক্ষমান সাংবাদিকদের বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা আছে, অতি সম্প্রতি ভারত সফর ও অন্যান্য দেশে সফরকালীন সময়ে সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তিগুলো হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী সেই চুক্তিগুলোকে জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং তার মধ্যে দেশের স্বার্থের হানিকর কিছু হয়েছে কি-না সেটা পর্যালোচনা করার সুযোগ দেওয়া হোক।'

তিনি বলেন, 'আমরা দেখেছি শুধু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন। কিন্তু এ সম্পর্কে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়নি, এমনকি রাষ্ট্রপতির কাছেও এই ফাইল গিয়েছে কি-না, এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ কিছু জানে না। কিন্তু সংবিধানের ১৪৫/ক ধারায় এটা সংসদে পেশ করার এবং জানার অধিকার রয়েছে জনগণের। জনগণের সমর্থিত দল হিসেবে বিএনপি এই দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। অবিলম্বে এটা সংসদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা হোক। যেন এটা পাবলিক ডিসকাশনের ব্যবস্থা হয়।

বিএনপির চিঠি হস্তান্তর

সংসদে বিএনপির প্রতিনিধি আছেন, সেখানে উত্থাপন না করে এখানে কেন দিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, জাতীয় সংসদে আমাদের যারা সদস্য আছেন, তারা কয়েক দফা এ ব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, নোটিশ দিয়েছেন। তাদের সে নোটিশ গ্রহণ করা হয়নি। কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা অনন্যোপায় হয়ে এখানে চিঠি দিলাম।'  

শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং এ প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

এর আগে গতকাল রাজধানীতে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকায় বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার যতদিন থাকবে ততই বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে একে একে নষ্ট হবে এবং বাংলাদেশ নিঃস্ব হয়ে যাবে।

বিএনপি মহাসচিব ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়ার বিষয়ে বলেন, এটা অভিন্ন নদী নয়। সেই ফেনী নদীর পানি নিয়ে যাচ্ছে অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন, খাওয়ার পানি চাইলে পানি দেবো না? ভালো কথা পানি দেবেন। তা আমার যে লাখ লাখ মানুষ তিস্তার অববাহিকায় আজকে পুরোপুরিভাবে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে, তাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, জীবন-জীবিকা ধবংস হয়ে যাচ্ছে- সে বিষয়ে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) একটি কথাও বলবেন না?

ড. হাছান মাহমুদ

এদিকে, ফেনী নদীর পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার বিষয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক  ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভারত বিরোধিতাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য।

গতকাল রাজধানীতে দলীয় এক অনুষ্ঠানে ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই ফেনী নদীর পানি দিয়ে দেওয়া হয়নি। এ নদীর কিছু পানি তারা পান করার জন্য আগে থেকেই ব্যবহার করে আসছিল, আমরা বরং সেটাকে ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে এনেছি। নদীর পানিপ্রবাহের দুইশত ভাগের মাত্র একভাগ তারা পানীয় হিসেবে ব্যবহার করবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য