ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ ১৫:২৩ Asia/Dhaka
  • প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন
    প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন

বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও হস্তক্ষেপমুক্ত বিচার ব্যবস্থার দাবিতে স্বোচ্চার হয়েছেন খোদ বিচারকরা। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে এ দাবিতে সোচ্চার হন দেশের বিচারকরা।

এর আগে গতকাল সকালে বিচারবিভাগীয় এ সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আইন প্রণয়ন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনের বৈকালিক অধিবেশনে আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, সংবিধান অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকেই স্বাধীন। হোক সে সহকারী জজ, হোক সে ম্যাজিস্ট্রেট। বিচার দেওয়ার বেলায় সে স্বাধীন। কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আমরা কারো হস্তক্ষেপ চাই না। হস্তক্ষেপবিহীন বিচার বিভাগ আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বিচার বিভাগ কারও নির্দেশে চলতে চায় না।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, 'দুপুরের পর এজলাসে না বসার অভিযোগের বিষয়ে সতর্ক করেন। নিম্ন আদালতের বিচারকদের প্রধান বিচারপতি বলেন, ২টার আগে সমস্ত কোর্টে (সিভিল ও ক্রিমিনাল) ট্রায়াল হবে। এটা বারবার আমার কোর্ট থেকে নির্দেশনা যাচ্ছে। আমি বিভিন্ন জায়গায় টেলিফোন করে দেখলাম যে আমার এটা ইমপ্লিমেন্ট হচ্ছে কি না। আমি সাতজনকে টেলিফোন করেছি তার মধ্যে তিনজনকে পেয়েছি আড়াইটার সময়।'

দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন আদালতের সব বিচারকদের এ মিলন মেলায় বিচারকরা বিচারকার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে তাদের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।

এ সময় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ইমান আলী বলেন, এ যুগেও এজলাস ভাগ করে বসতে হয়। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে একই এজলাস কক্ষে সকালে একজন বসেন আর দুপুরে আরেকজন বসেন।

বিচারকরা বলেন, বেশকিছু আইনে আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান থাকলেও সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে আদালত পরিচালিত হচ্ছে। যেমন- পরিবেশ আদালত আইন, নিরাপদ খাদ্য আইন ও দ্রুত বিচার আইন।

সম্মেলনে বিচারকরা বলেন, বিভিন্ন সরকারি অফিসে উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ নগদায়নের সুবিধা পান। অথচ সমপর্যায়ের বা তদুর্ধ্ব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা উক্তরূপ সুবিধা হতে বঞ্চিত। এছাড়া বিচারিক ভাতা বর্তমান মূল বেতন স্কেলের ৩০ ভাগ উন্নীতকরণ, চিকিৎসা সহায়তা ফান্ড সৃষ্টি, প্রতি জেলায় জুডিশিয়াল ডরমিটরি নির্মাণের দাবি জানান তারা।

সভাপতির বক্তব্যে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেন, দেশে এক লাখ মানুষের জন্য একজন বিচারক। প্রতি বিচারকের উপর বোঝা হিসেবে আছে ২ হাজার ৫৮ মামলা। মামলার ভারে আমরা ডুবে যাচ্ছি। এই ডুবন্ত অবস্থায় হাত গুটিয়ে থাকা যাবে না। বিচারপ্রার্থী জনগনের জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে  হবে।

ওদিকে, শনিবার রাতে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে দরবার হলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম ও হাইকোর্ট এবং অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা আদালতের বিচারকগণের সঙ্গে এক নৈশভোজ সভায় মিলিত হন।

এসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে পারস্পরিক ভারসাম্য রেখে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ পৃথকভাবে দায়িত্বপালন করলেও তারা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন বরং পরস্পর সম্পূরক। তাই আপনাদেরকে পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রক্ষাকবচ হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

নিজে পেশাগত জীবনে আইনজীবী হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবুল হামিদ আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বিচারপ্রার্থীদের জন্য কম খরচে সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি সর্বসম্মত 'ওকালতনামা’ ফি নির্ধারণের নির্দেশ দেন, যাতে গরীব বিচারপ্রার্থীরা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে এ সুযোগটি পেতে পারে। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য