জানুয়ারি ২৩, ২০২০ ২০:২৪ Asia/Dhaka
  • ঢাকা সিটি নির্বাচন: কারচুপির বিরুদ্ধে বিএনপি'র হুঁশিয়ারি এবং সিইসির বক্তব্য

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাস বলেছেন, 'ইভিএম-এ সুষ্ঠু ও সঠিক ফল আসলে আমরা নির্বাচন মেনে নেব। কিন্তু কোনো কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হলে এই মেয়র নির্বাচন থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।'

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সেগুনবাগিচায় এক সমাবেশে মির্জা আব্বাস এ হুশিয়ারী দেন।

তাছাড়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪তম দিনের প্রচারণা শুরুর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হুশিয়ার করে বলেন, নির্বাচনে কোনপ্রকার ভোট কারচুপি হলে জনগণ তার জবাব দেবে ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, আমরা জনগণের প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রয়েছি, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন রয়েছি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে রয়েছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল জনগণ হবে ক্ষমতার মালিক, জনগণ হবে রাষ্ট্রের মালিক। ভোটের দিন যদি সে রকম কোনো পরিস্থিতি হয় তাহলে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কিভাবে তাদের অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং তারা তাদের প্রতিবাদ জানাবে।

ওদিকে ঢাকা উত্তরে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে হামলা প্রসংগে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আতিকুলইসলাম বলেছেন, এটা বিএনপি’র লোকেরাই করেছে।

এর আগে, গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমাদের প্রত্যয় রয়েছে, দৃঢ়তা রয়েছে, অঙ্গীকার রয়েছে, নিষ্ঠা রয়েছে এবং একাগ্রতা রয়েছে।

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি চাই না, নির্বাচনে কোনো রকম অভিযোগ, অনিয়ম, বিচ্যুতি নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়াক। আমাদের পর্যন্ত যদি আসে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান থাকবে। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখব কার কার কোন কোন অবস্থায় কার কতটুকু বিচ্যুতি রয়েছে, তা বের করব। কঠিনভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন। আমরাও কঠোর অবস্থানে থাকব অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে।’

বিএনপি’র নির্বাচনী এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দানেরর অভিযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে বারবার অভিযোগ আসে এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেয়া হয় না। অথবা ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। তবে এজেন্টদের বাড়ি থেকে এনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না।’

ওদিকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আবারো দাবী তোলা হয়েছে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন করা হোক।

আজহ  বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে হাইকোর্ট মাজার প্রাঙ্গণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ইভিএমের বিষয়টা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের। এতে অন্য কারও কোনও এখতিয়ার নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের অযোগ্যতা ঢাকার জন্য ইভিএম নিয়ে আসছে। সরকারি দলকে সাহায্য করার জন্যই কমিশন ইভিএম নিয়ে আসছে।সুষ্ঠ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হোক।’

এ সময় মির্জা ফখরুল অরো অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে সরকার। এই সরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনও নিরপেক্ষতার কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি। তাদের সেই যোগ্যতা নেই বলে আমরা মনে করি।ফখরুল বলেন, ‘গতকাল (২২ জানুয়ারি) উত্তর সিটিতে আমাদের কাউন্সিলর ও ধানের শীষের কর্মীদের আহত ও নির্যাতন করা হয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থীকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’

সিটি নির্বাচনে ইভিএম বাতিলের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটির আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ডিজিটাল কারচুপির উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন ইভিএম নিয়ে ব্যস্ত। দেশবাসী আর জালিয়াতি ও প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না।’

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সভাপতির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের ওপর হামলা, মামলা, ভয়-ভীতি অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার গাবতলীতে প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছে। এ আক্রমণ দেখেই বোঝা যায়, নির্বাচন কেমন হবে। আর নির্বাচন কমিশনের এসব অন্যায় দেখার সময় নেই। সিটি নির্বাচনে ইভিএম বাতিল করতে হবে।’

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের  নির্বাচনীকে সামনে রেখে  কাজের সমন্বয়ের জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল চারটায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে নির্বাচনের শেষ দিকে এসে এ  বৈঠক ডাকায় ক্ষুদ্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /২৩

 

 

 

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য