জানুয়ারি ২৪, ২০২০ ১৭:৪৬ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের সব জেলায় রেলসেবা পৌঁছে দেয়ার মহাপরিকল্পনা: চালু হবে বুলেট ট্রেন

নিরাপদ ও স্বল্প খরচের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন মাধ্যম হলো রেল। বাংলাদেশের মৃতপ্রায় এ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুনর্জীবিত করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার।

১০ বছর আগে নেয়া ২০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার আলোকে বেড়েছে রেলসেবা। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা আসবে রেল নেটওয়ার্কের আওতায়; চলবে দ্রুত গতির বুলেট ট্রেনও।

দীর্ঘদিন বিনিয়োগ বঞ্চিত রেলখাত একেবারেই ধসে পড়ে ১৯৯১ সালে। ছাঁটাই করা হয় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। নানা অব্যবস্থাপনায় কমতে থাকে রেললাইন, বন্ধ হয়ে যায় কয়েকশ’ স্টেশন। বগি আর ইঞ্জিনের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল।

২০১১ সালে আলাদা রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে রেল যোগাযোগকে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। রেলসেবার আধুনিকায়নে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে নেয়া হয় দু’দশকের মহাপরিকল্পনা। ৫ বছর করে ৪ ভাগে বিভক্ত সেই মহাপরিকল্পনায় এরই মাঝে শেষ হয়েছে শতাধিক প্রকল্প।

১০ বছরে নির্মিত হয়েছে ৩৮১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ, ৩৪৭টি রেল সেতু। কেনা হয়েছে ১৪০টি ইঞ্জিন, প্রায় ৪০০টি যাত্রীবাহী ক্যারেজ। চালু হয়েছে ১৩৫টি নতুন ট্রেন। ৬২টি বন্ধ স্টেশন চালু করা হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার নতুন কর্মী।

মহাপরিকল্পনার আলোকে এ মুহূর্তে চলমান আছে ৩৬টি প্রকল্প; যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে ১ হাজার ২৬৮ কিলোমিটার রেল লাইন, ৩৫৮টি রেল সেতু, কেনা হবে ১৪০টি ইঞ্জিন, ৬ শতাধিক বগি ও ১০০০ হাজার পণ্যবাহী ওয়াগন।

নির্মাণ করা হবে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু। আর পদ্মা সেতু রেল সংযোগের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে রেলের সম্প্রসারণ ঘটবে। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত রেল প্রকল্পের কাজ চলছে।

রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানান, পরিবহনে সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে তার মন্ত্রণালয়। মহাপরিকল্পনার আলোকে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে রেল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হবে। এরইমধ্যে রাজধানীতে পাতাল রেল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। রেলসেবায় যুক্ত হবে দ্রুত গতির বুলেট ট্রেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার গতির ট্রেন পরিচালনা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলকে যুক্ত করার বিষয়টিও আছে রেলের মহাপরিকল্পনায়। এর আলোকে প্রকল্প নেয়া হয়েছে ট্রান্স এশিয়া রেল কমিউনিকেশনের; যার আওতায় বাংলাদেশ থেকে রেল পথে যাওয়া যাবে ভারত-মিয়ানমার-চীন ভুটানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে। যা এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।#

পার্সটুডে/ শামস মন্ডল/মো.আবুসাঈদ/২৪

ট্যাগ

মন্তব্য