ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ ১৩:২৪ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা প্রতি বছরই বাড়ছে। ব্যাপক জনসচেতনতা, অপরাধীদের গ্রেপ্তার বা দ্রুত বিচার করেও অপরাধের রাশ টানা যাচ্ছে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী এ বছরের শুরু থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ১১৫ জন  নারী ও শিশুকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬৪ জনই কিশোরী।

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধকল্পে দেশের বড়বড় এগারোটি হাসপাতালে ওসিসি স্থাপন করে অপরাধের শিকার নারী ও শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসব সেন্টারের তথ্য আনুযায়ী, ২০১৮ সালে যেখানে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ১,৬২০ সেখানে ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,২১২।

তবে পুলিশ পরিসংখ্যান অনুযায়ী- বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৪০০টি। এ হিসাবে বাংলাদেশে ধর্ষণের হার ৩.৮০ অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ নারী-শিশুর মধ্যে প্রায় ৪ জনকেই ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে, যা স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

যদিও নারী ও শিশুর প্রতি সার্বিক সহিংসতা বা নির্যাতনের প্রকৃত ঘটনা আরও অনেক বেশি যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রকাশ পায় না।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী ফরিদা আখতার রেডিও তেহরানকে বলেন, শুধু আইন এবং আইনের প্রয়োগ দিয়েই এ অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা যেমন দরকার তেমনি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তোলা জরুরি।

অপরাধের বিচার

নারী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশের ওসিসি-তে ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪,৫৫১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬০টি ঘটনায় শাস্তি হয়েছে। ঢাকা জেলার পাঁচটি নারী নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে গত ১৫ বছরে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার মাত্র তিন শতাংশর ক্ষেত্র সাজা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব মামলায় আসামী গ্রেপ্তার ও তদন্ত কাজে দীর্ঘসূত্রতা এবং  ছ’মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার আনেক ক্ষেত্রেই মামলা চালানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।  

তাছাড়া, অপরাধের শিকার পরিবারটিকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। মামলা চালাতে গিয়ে অর্থ ব্যয় ছাড়াও প্রভাবশালী মহলের চাপের শিকার হওয়া এবং ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বিয়ে না হওয়া- এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে আপোষ-রফার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য