মার্চ ২৬, ২০২০ ২০:৪০ Asia/Dhaka
  • অনাড়ম্বর পরিবেশে বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত: বিভিন্ন মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আজ  ২৬ মার্চ।  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালে এদিনে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে এই দীর্ঘ ৪৯ বছরে কখনোই যা হয়নি- একেবারে আড়ম্বরহীন, উৎসব-অনুষ্ঠান বর্জিত, তোপধ্বনি-পুষ্পমাল্য ছাড়া, জনসমাগমবর্জিত, শুনশান নিরবতার মাঝে অতিক্রান্ত হয়েছে জাতির এই গৌরবের দিনটি। তাছাড়া সরকারিভাবে আগেই ঘোষণা দিয়ে সকল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানাদি বাতিল করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা বা কোভিড ১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো দেশ আজ বলতে গেলে অবরুদ্ধ। রাস্তা-ঘাট জনশূন্য; গণপরিবহন বন্ধ; জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে আসছেন না। এমন নিদারুণ সংকটের মাঝে কী করে স্বাধীনতা দিবসের জৌলুস প্রকাশ পাবে! 

তারপরও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, চেতনা, প্রাপ্তি আর অর্জন নিয়ে পূনর্মূল্যায়ন করার দিন এটি। এ নিয়ে স্বাধীনতার বীর সৈনিক- মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও  সাধারন মানুষের ভাবনা-চিন্তা জানতে রেডিও তেহরানের পক্ষ থেকে কয়েকজনের সাথে কথা হয়েছে।   

ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একাত্তরের পর এই প্রথম জাতি আজ এক ভয়ানক বিপদসংকুল পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে। একটি অদৃশ্য ভাইরাসের বিরুদ্ধে এ লড়াইতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি তরুণ ঘোষ জানান, দেশ স্বাধীন করার যুদ্ধে আমরা সেদিন বিজয় হয়েছিলাম। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেদিনের আকাঙ্ক্ষা আজও পুরোপুরি অর্জিত হয় নি।

স্বাধীনতার ৮৯ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি না হওয়ার হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে এটি কখনোই  চূড়ান্ত করা হবে না। সরকারের বরং এ চেষ্টা না করাই ভালো।

শ্যামা ওবায়েদ

এদিকে, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সংগঠনের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদ রেডিও তেহরানকে বলেন, আজকের প্রজন্ম দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশ। দেশে চলছে, আবাধ লুটপাটের রাজত্ব; ভিন্নমত  প্রকাশের কারনে নাগরিকদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা- গণতন্ত্র, জনগণের আধিকার- এসব আজও অর্জিত হয়নি। আজও আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে বাক স্বাধীনতার জন্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য; জনগণের মৌলিক অধিকারের জন্য।

ইমরান খান

বাংলাদেশের এবারের স্বাধীনতা দিবসে আরও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭১ সালের এ দিনে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ শুরু করেছিল বীর বাঙালি জাতি। আজকে সেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে ইমরান খান লিখেছেন, পাকিস্তানের সরকার ও জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। পাকিস্তান বাংলাদেশের সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার করতে চায়। আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি বজায় রাখার জন্য আমাদের দুই দেশেরই অভিন্ন ইচ্ছা রয়েছে। এই মিলগুলো সামনের দিনগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে আমাদের জন্য শক্ত ভিত্তি হিসাবে কাজ করবে। আমি বাংলাদেশের ভ্রাতৃবৎ জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে তাদের পাশে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করছি।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য