এপ্রিল ০৮, ২০২০ ১৭:৩৫ Asia/Dhaka
  • করোনায় মৃত এক ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠান
    করোনায় মৃত এক ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠান

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে মৃত্যু ও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী- দেশে আজ সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২০ জনে। এ ছাড়া, নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১৮ জন। নতুন করে কেউ সুস্থ হননি।

ইতোমধ্যে ১৭টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক দূরত্ব কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। চলছে সাধারণ ছুটি। লোকজনকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। শবে বরাতের নামাজ, জিকির আজকার মসজিদে না গিয়ে  ঘরে বসেই আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকার মহানগরের ৫২টি এলাকা লকডাউন করেছে কর্তৃপক্ষ। লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে গোটা নারায়ণগঞ্জ পৌর এলাকায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামে আগমন বা বহির্গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী কোভিড ১৯ এর সংক্রমণকে ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের খেলা’ বলে উল্লেখ করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দুঃসময়ে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য অবস্থাসম্পন্ন প্রতিবেশীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানীতে লকডাইন কবলিত টোলারবাগ এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারি মাহমুদ সবুর তাদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে রেডিও তেহরানে জানালেন, আজকের পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে হালুয়া রুটি বিতরণ, মসজিদে গিয়ে বিশেষ দোয়া মিলাদ মোনাজাত এমনকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতব্যক্তিদের জন্য দোয়া করার সূযোগও নেই- সেটাই বড় মনোকষ্টের কারণ।

ঢাকার প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অবস্থান

এদিকে লকডাউন কবলিত নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, জনগণকে স্বল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে জরুরি কেনাকাটার জন্য। তবে বাজারে সরবরাহ কম হবার কারণে  জিনিষপত্রের দাম বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এখানে রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করার জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে- এটাই স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের বর্তমান স্তরকে ‘ক্রান্তিকাল’ বলে চিহ্নিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, সংক্রমণের তৃতীয় স্তর থেকে চতুর্থ স্তরের দিকে যাচ্ছে দেশ। রোগ সংক্রমণের চতুর্থ স্তরে পৌঁছানোর অর্থ, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে বহু মানুষ, হাসপাতালে রোগীর ভীড় বাড়বে এবং মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সকল জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারা বিশ্বে যেভাবে করোনা রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে, যে রকম পূর্বাভাষ দেয়া হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য চলতি এপ্রিল মাসটা খুবই সংকটকাল। এই সময়টা আমাদের আরো বেশি সাবধানে থাকতে হবে। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৮

ট্যাগ

মন্তব্য