এপ্রিল ১০, ২০২০ ১৫:০০ Asia/Dhaka
  • পিপিই বিতরণ অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী
    পিপিই বিতরণ অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী

করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষদের জন্য দেওয়া সরকারের ত্রাণ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ (শুক্রবার) বেলা ১১টায় রাজধানীতে চিকিৎসকদের মধ্যে পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ও অন্যদের জন্য ব্যক্তিগত পিপিই প্রদান করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি রিলিফের ত্রাণগুলো চলে যাচ্ছে তাদের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে। তারা (ক্ষমতাসীন দল) নেতা-কর্মীদেরকে বলছেন যে, মানুষের পাশে থাকবে। আর সরকারি ত্রাণ চলে যাচ্ছে তাদের বাড়িতে।”

জেডআরএফ ও ড্যাবের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমস্ত দেশবাসী এখন বৈশ্বিক মহামারি করোনার ভয়ে ভীত এবং মারাত্মক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষিতদের মধ্যে করোনা রোগী শনাক্তকরণের হার প্রতিদিনই আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। ঢাকাসহ সারা দেশের ২০ জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের থাবা লক্ষ্য করা গেছে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের জাতীয় ঐক্য দরকার।

রিজভী বলেন, 'গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার) দেশের ১০টি জেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কমপক্ষে ১৫ জন। এমন হিসাব প্রায় প্রতিদিনের। সত্যিকারার্থে জনস্বাস্থ্য নিয়ে এ সরকার কিছুই করেনি। সরকারের মন্ত্রীদের মুখে দেশে উন্নয়নের জোয়ারের খবরে এতদিন দেশ ভেসে গেছে! তাহলে স্বাস্থ্যে খাতের এত বেহাল দশা কেনো? হাসপাতালে নেই কোনো আধুনিক সরঞ্জামাদি। পরীক্ষা করতে নেই সামগ্রী, রোগ ডায়ালাইসিসের কোনো ব্যবস্থা নেই, তেমন কোনো আইসিইউ নেই, ১৭ কোটি মানুষের জন্য ভেন্টিলেটর আছে মাত্র ১৭শ। হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, নার্স নেই। হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে ঢাবি শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের বর্তমানে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।'

পিপিই বিতরণ করছেণ রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, 'যখন থেকে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব শুরু হয়েছে সরকার তখন থেকেই কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেই মেডিকেল সেক্টরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সরকারের অবহেলার কারণেই স্বাস্থ্যখাতে চরম সঙ্কট বিরাজ করছে। এই সঙ্কটের মধ্যেও অনেক চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিবেদিতভাবে কাজ করছেন। তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। যার যার অবস্থানে থেকে সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।'

রিজভী বলেন, 'আমাদের এই দরিদ্র দেশে এই মুহূর্তে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল কোটি কোটি মানুষ এখন কর্মহীন। চাল-ডাল জোগাড় করতে তারা যদি সামাজিক দূরত্বের দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসেন সংক্রমণ প্রতিরোধ তখন অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ ক্ষুধার আক্রমণ করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর। তাই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই সব জনগোষ্ঠীর জন্য আপদকালীন সহযোগিতাই পারে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বিএনপি বেশকিছু প্রস্তাবনা জাতির সামনে পেশ করেছে।'

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) আহমেদ শফিকুল হায়দার পারভেজ, অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রকৌশলী মাহবুব, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, শায়রুল কবির খান ছাড়াও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এনামুলসহ চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য