জুন ০৪, ২০২০ ২১:৫৯ Asia/Dhaka

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশে তিন শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শতকরা ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চলছে। এ অবস্থায় চলতি মাস (জুন) থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক।

আজ বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ‘জুন থেকে শ্রমিকদের ছাঁটাই হবে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ, শতকরা ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চলছে। আমাদের ছাঁটাই ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তবে যারা চাকুরিচ্যুত হবেন, পরবর্তীতে কাজ বাড়লে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিজিএমইএ সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন, ‘দেশে শ্রম আইন আছে। শ্রম আইনের বাইরে কিছু হবে না।

করোনাজনিত মন্দা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রপ্তানী আয় কমে যাবার পাশপাশি অভ্যন্তরীণ আয়ও কমে যাবার আশঙ্কা করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

এ অবস্থায় কর্মসংস্থান সংকুচিত হবার কারণে শ্রমিকসহ অনেক মানুষ চাকুরি হারাবেন, অনেকের ক্ষেত্রে বেকারত্ব দীর্ঘায়িত হবে। ফলে একটা সামাজিক অস্থিরতাও দেখা দিতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। 

আজকে সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক জানিয়েছেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। বিশ্বে ভোক্তার চাহিদা কমে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা বলছে, আগামীতে ৬৫ শতাংশ চাহিদা কমে যাবে। তাই পোশাকের চাহিদা বাড়ার তেমন সম্ভাবনা কম।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক

তিনি কঠিন বাস্তবতর চিত্র তুলে ধরে বলেন, করোনায় দেশের ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানার ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটি দিয়ে চালাতে হবে। জুনে কারখানাগুলোতে ৩০ শতাংশ কাজ হবে। জুলাইতে কী হবে বলা যাচ্ছে না। আমাদের বড় ধাক্কা খেতে হবে।

রুবানা হক আরো জানান, বর্তমানে ২ হাজার ২৭৪টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯২৬ চালু রয়েছে। বাকিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ৪৬টি কারখানার ১৮ হাজার শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন বাকি রয়েছে। এগুলো দেওয়া হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ঈদের আগে বোনাস দেয়নি। তারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বোনাস দিয়ে দিবে।’

বিজিএমইএ সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় এখন মানুষ সুস্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি; পোশাককে নয়। ফলে শতকরা ৬৫ শতাংশ অর্ডার কমে যাচ্ছে। চীন থেকে ৫৫ ভাগ বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকে দুই শতাংশ কমিয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে সাত শতাংশ রপ্তানি আদেশ বাড়িয়েছে। তবে চীনও ভিয়েতনামে অনেক বিনিয়োগ করেছে। এটা তারা হয়তো বাড়াবে। কিন্তু আমরা কীভাবে এগোবো তার উপায়  বের করতে হবে।’#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য