জুন ২৯, ২০২০ ১৯:১৯ Asia/Dhaka

করোনা সংক্রমণ এড়াতে ষাটোর্ধ্ব বয়সী ব্যক্তিদের এবার কোরবানির পশুর হাটে না যেতে অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

এ সময় সঠিকভাবে পশুর হাট পরিচালনার জন্য সবার সহযোগিতা চেয়ে তাপস  আরও বলেন, করোনা মহামারিকে কোনোভাবেই হালকা করে নেয়ার সুযোগ নেই। তাই যাঁরা কোরবানির পশুর হাটে যাবেন, তাঁরা যেন মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পশুর হাটে আসেন।

আজ (সোমবার) দুপুরে নগর ভবনে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় শেখ ফজলে নূর তাপস এই অনুরোধ জানান।

তবে নাগরিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের কথা জানিয়ে বর্তমান করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার মাঝে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জনবহুল এই রাজধানীতে গরুর হাট না বসানোর দাবি জানানো হয়েছে।

কোরবানির পশুর হাট

এ প্রসঙ্গে নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের (নাসফ) সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না রেডিও তেহরানকে বলেন, করোনা সংক্রমণের তীব্রতার মাঝে রাজধানীতে গরুর হাট বসাবার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে নাগরিকগণ আতঙ্কিত। কোরবানির গরুর হাটের মধ্যমে রাজধানীতে আরেক দফা সংক্রমণ বিস্তার লাভ করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

হাফিজুর রহমান ময়না আরো জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্য সমন্বয় না ঘাকার কারণে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার একটা লেজেগোবরে অবস্থার মধ্যে পড়েছে। ফলে জনগণের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে; তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

এদিকে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার মাঝে জনবসতিপূর্ণ নগর-মহানগরে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিকৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ’। চিকিৎসক সমাজ অবিলম্বে কোরবানির পশুর হাট বসাবার মত আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক  ডা. শাকিল আখতার গতকাল এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে শারীরিক দূরত্ব রক্ষার ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং প্রমাণিত সত্য হলো- যে সমস্ত দেশ এই পদক্ষেপ ঠিকভাবে কার্যকর করতে পেরেছে, সেসব দেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতা পেয়েছে। এই দেশগুলোতে সকল উপাসনালয়সহ যেখানেই ঘনিষ্ঠ লোকসমাগম হয় সেখানেই সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিশেষ করে জনবহুল শহর-নগরে পশুর হাট বসলে কোনোভাবেই শারীরিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করা সম্ভব হবে না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- পশুর হাট বসলে করোনা সংক্রমণের হারের সাথে মৃত্যু হারও বৃদ্ধি পাবে, বৃদ্ধি হবে গরীব মানুষের ভোগান্তি।

চিকিৎসক সমাজ মনে করেন, করোনা মহামারীর এই সংকটকালে পশু কোরবানি পরিহার করে দুঃস্থ জনগণের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা ও অর্থসহায়তা করার বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কেউ শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখেও যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাড়িতে পোষা পশু অথবা অনলাইনে কিংবা সরাসরি গৃহস্থের নিকট থেকে পশু ক্রয় করে কোরবানি দেবার ব্যবস্থা করলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য