জুলাই ১০, ২০২০ ১৫:৪৪ Asia/Dhaka
  • অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা
    অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আজ (শুক্রবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৭ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ২৭৫ জনে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৯৪৯ জন। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩ জনে।

করোনাভাইরাস বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি নতুন যুক্ত একটিসহ মোট ৭৭টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ হাজার ৩৭৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ৪৮৮টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো নয় লাখ ১৮ হাজার ২৭২টি।  

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৭ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ এবং নারী আটজন। এদের মধ্যে ২০ বছরের ষাটোর্ধ্ব ১৫ জন ও সত্তরোর্ধ্ব চারজন রয়েছেন। বেশি বয়সী একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব সাতজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১২ জন ঢাকা বিভাগের, ১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন রাজশাহী বিভাগের, দুজন সিলেট বিভাগের, দুজন রংপুর বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

শুক্রবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৮৬২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৬ হাজার ৪০৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের আহ্বান জানানো হয় বুলেটিনে।

ঢাকা মেডিকেলে ২ দিনে আরো ১৯ জনের মৃত্যু

ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ৮ ও ৯ জুলাই দুই দিনে আরো ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ৩ জন। বাকি ১৬ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এই দুই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার মিরপুর কাফরুলের সইফুদ্দিন আহম্মেদ (৭৬) গাজীপুরের কাউছার আহম্মেদ (৫০) ও হবিগঞ্জের নিপুণ আক্তার (২০) এরা সবাই করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন

ওয়ারীতে লকডাউনের মধ্যেও বাড়ছে সংক্রমণ

প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল ওয়ারীর লকডাউন। অথচ এর মধ্যে থেমে নেই করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ। বরং যে পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার প্রায় অর্ধেক নমুনাই আসছে কোভিড পজিটিভ। তাতে লকডাউনের কোনো সুফল মিলছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ওয়ারীর কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, লকডাউনের প্রথম চার দিনে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া ৬৯ জনের ফলাফলে ৩১ জন করোনা পজিটিভ এসেছেন। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকের শরীরেই করোনা শনাক্ত হয়েছে।

লকডাউন বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওয়ারী লকাডাউন করা এলাকায় সংক্রমণের যে হার দেখা যাচ্ছে, সেটা লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আরও তুলে ধরেছে। নমুনা সংগ্রহের প্রায় ৫০ ভাগ মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ছে। তাই লকডাউন কঠোরভাবে পালন করতে হবে।

গত ৪ জুলাই থেকে ওয়ারীর টিপু সুলতান রোড, যোগীনগর রোড ও জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন, লারমিনি স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিট, ওয়ার স্ট্রিট, র‌্যাংকিং স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট এলাকায় লকডাউন শুরু হয়। লক্ষাধিক মানুষের আবাসস্থল এই এলাকায় করোনা প্রতিরোধে আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে লকডাউন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য