জুলাই ১০, ২০২০ ১৮:১১ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে ভারত। সম্প্রতি বাংলাদেশের ৯৭ ভাগ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা দিয়েছে চীন। এরইপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে আরেকটু কাছে টানার চেষ্টা করছে ভারতও।

এদিকে, পাকিস্তানও ‌এ সময় বাংলাদেশের সাথেও সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী গত ১ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনের সাথে তার দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাতকালে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে মত বিনিময় করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, সম্প্রতি চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনার প্রক্ষাপটে চীন চাইছে বাংলাদেশ তাদের পক্ষে থাকুক। গত মাসে চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাতের পরদিনই চীন বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য আমদানির ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ১ জুলাই থেকে এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে।

চীনের এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একে বড় একটি 'কূটনৈতিক বিজয়' হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এর ফলে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে। দুই দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

চীনের এই সিদ্ধান্ত যেহেতু ভারতের সঙ্গে দেশটির সামরিক বিবাদের সময়ই এসেছে, সেহেতু রাজনৈতিত পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটি চীনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একে আখ্যা দেয়া হয়েছে 'বাংলাদেশকে জিতে নেয়ার প্রচেষ্টা' হিসেবে। তবে এ  নিয়ে ভারতের উষ্মাও বাংলাদেশেরর জনগণকে আহত করেছে। 

এ প্রেক্ষিতে ভারতও বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহণের সুবিধা দিতে চায় ভারত। এরফলে আভ্যন্তরীণ নৌরুট ও বন্দরগুলো ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহণে যথেষ্ট সুবিধা নিশ্চিত হবে।

ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই ১৯৬৫ সালের পূর্বেকার রেল লাইন পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে। 

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর গত বুধবার বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এক বার্তায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

এম শাহীদুজ্জামান

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান রেডিও তেহরানকে বলেন, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন একটা সূযোগ এসেছে তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর করার। বাংলাদেশকে কোন একটি দেশের উপর অধিক নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সকলের সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি হলে আঞ্চলিক প্রভাব বলয়ে একটা ভারসাম্য আসবে।

এর আগে, চীন বাংলাদেশকে ৩০০০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। অপরদিকে ভারত এখন পর্যন্ত ১০০০ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে।

অপরদিকে, পাকিস্তানের সাথে ভারতের রয়েছে টানা বৈরিতার সম্পর্ক। আর চীনের সাথে রয়েছে তার সব ঋতুর ঘনিষ্ঠতা (অল ওয়েদার ফ্রেন্ডশিপ)।

এরকম অবস্থায় পাকিস্তান এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সাথে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে। উভয় দেশের বেসরকারি খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াবার লক্ষ্য নিয়ে দু’দেশই একত্রে কাজ করতে পারে বলেও আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান।  

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, ভ্রাতৃপ্রতীম বাংলাদেশের সাথে সকল ক্ষেত্রেই  ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চায় পাকিস্তান। কারণ দু’দেশের রয়েছে একটি অভিন্ন ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও  সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য