আগস্ট ০৫, ২০২০ ১৯:৫৫ Asia/Dhaka

কক্সবাজারে গত শুক্রবার পুলিশের গুলিতে এজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার  মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ আজ (বুধবার) কক্সবাজারে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে, এ ঘটনাটিকে একটি 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা' হিসেবে  উল্লেখ করেছেন। তবে, বাংলাদেশে এই প্রথম সেনা প্রধান ও পুলিশের প্রধান একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে এরকম একটি পরিস্থিতি জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করেছেন।

কক্সবাজারের সেনাবাহিনীর বাংলো জলতরঙ্গে আয়োজিত আজকের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। যে ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী মর্মাহত। আমি আপনাদের মাধ্যমে যে মেসেজ দিতে চাই, তা হলো এটাকে আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাই।’

জেনারেল আজিজ বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরে—এমন কিছু হবে না।’ এ ঘটনা নিয়ে যেন সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত চিড় ধরানোর মতো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকারও অনুরোধ করেছেন তিনি।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, 'বাংলাদেশ আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে আইনের শাসন আছে। সংবাদমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বিচার বিভাগ মুক্ত। এ ঘটনা নিয়ে অনেকে উসকানিমূলক কথা বলার চেষ্টা করছেন। যারা উসকানি দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না।'

বেনজীর আহমেদ বলেন, 'সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক। মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যুতে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় হবে না। কমিটি প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। কমিটি যে সুপারিশ দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান

ওদিকে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার ঘটনায় আজ কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা রুজু করেছে নিহতের পরিবার। পরে আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য র‌্যাবের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে এবং দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। এ মামলায় মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় বাদী হয়েছেন বোন শারমিন শাহরিয়া।  

গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনার পর গত রোববার শামলাপুর চেকপোস্টের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ ১৬ জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  টেলিফোন করে নিহত সিনহার মাকে শান্তনা দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য