আগস্ট ১৪, ২০২০ ১৯:২৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের যেকোনো বয়সের শিক্ষার্থীকে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ রেখে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির নীতিমালা ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু এতে দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষকরা এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস পরিষদ। তাদের দাবি- এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনে নামবে তারা।

আজ (শুক্রবার) ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি)-এর মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. শামসুর রহমান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছে।

আইডিইবি মহাসচিব বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত নতুন ভর্তি নীতিমালা অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং বর্তমানে সফলভাবে পরিচালিত কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের একটি পাঁয়তারা।

তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালের আগের নীতিমালা অনুসারে সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। তা না হলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন ছাত্র-শিক্ষকরা।

আইডিইবির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম এ হামিদ পরামর্শ দিয়েছেন, যদি বয়স্কদের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে হয়, তাহলে শুধু বয়স্কদের জন্য দেশের ২৯টি সরকারি পলিটেকনিকে পৃথকভাবে কোর্স চালু করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিকল্প হিসেবে ১১টি সরকারি পলিটেকনিকে সান্ধ্যকালীন কোর্সে তাদেরকে ভর্তি করে ক্লাস পরিচালনা করা যেতে পারে।

ফাইল ফটো

আইডিইবির সভাপতি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সাথে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনাকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে এক করে ফেলেছে, যা খুবই হতাশাজনক। অন্তত: ১৫-২০ বছর আগে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলামের সিলেবাসভুক্ত বিষয়গুলো কোনোভাবেই সহজে অনুধাবনযোগ্য হবে না।

আইডিইবির সভাপতি আরো বলেন, পিতৃতুল্য কিংবা বড় ভাইয়ের বয়সী শিক্ষার্থীদের সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ফারাকের কারণে শ্রেণিকক্ষের ভারসাম্য নষ্ট হবে, সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সৃষ্টি হবে। শিক্ষকদের পক্ষে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ রক্ষা সম্ভব হবে না। ফলে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির পরিবর্তে হ্রাস পাবে। সমাজে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা সম্পর্কেই বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, বয়স্ক ও বিদেশফেরত ব্যক্তিদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ১ থেকে ৬ লেভেল পর্যন্ত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে চাকরি ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সমতুল্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, বিএমইটিসহ আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়, এনজিওর মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড তাদের সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশ-বিদেশের চাকরির জন্য ও উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যবস্থা করা যুক্তিযুক্ত।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য