অক্টোবর ১৬, ২০২০ ১৫:৪৫ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দেশের প্রতিটি ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। করোনা দুর্যোগে খাদ্য উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। কৃষক যাতে ফসল উৎপাদনে উৎসাহ না হারায় সেজন্য প্রণোদনা দেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে। ক্ষমতায় এসে খাদ্য সংকটের দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে মানুষ যেন কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ্য করে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টি যেন নিশ্চিত হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

এর আগে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এসময় খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্ভাব্য খাদ্য সঙ্কট মোকাবিলায় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে সে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কয়েক দফা বন্যায় রোপা আমন বীজতলা, চারা ও মাঠে দণ্ডায়মান ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে বিনামূল্যে চারা বিতরণ, ভর্তুকি সহায়তা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে রোপা আমন ধানের আবাদে সহায়তা দেয়া হয়েছে। আগামী বোরো মৌসুমেও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বোরো ধান বীজ কেজি প্রতি ১০ টাকা হারে ভর্তুকি প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, প্রতি ইঞ্চি জায়গা চাষের আওতায় এনে পারিবারিক পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ৪৩৯৭টি ইউনিয়নে ৩২টি করে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৭টি পরিবারে পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়েছে। মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষে প্রতি ইউনিয়নে নতুনভাবে ১০০টি করে পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন করা হচ্ছে।

বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ১৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার সার, বীজসহ কৃষি উপকরণ পুনর্বাসন কর্মসূচি হিসেবে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ৭৫ কোটি টাকা দিয়ে ৯ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষককে গম, সরিষা, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, খেসারী, পেঁয়াজ, মরিচ, টমেটো ইত্যাদি ফসল আবাদের জন্য বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ কাজ চলছে।

এ ছাড়া, বিশ্ব খাদ্য দিবসে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সকল মানুষকে অবহিতকরণের জন্য মোবাইলে সচেতনতামূলক খুদে বার্তা প্রেরণ, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায়  বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ও তাৎপর্য সম্বলিত পোস্টার/বিলবোর্ড স্থাপন ও ভিডিও ডকুমেন্টেশন প্রচার এবং ‘কৃষিকথা’ ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য