অক্টোবর ১৬, ২০২০ ১৬:০৩ Asia/Dhaka
  • ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ
    ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ

বাংলাদেশে ধর্ষণ-নিপীড়ন বন্ধ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণসহ ৯ দফা দাবিতে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়েছে। লংমার্চটি নোয়াখালীর মাইজদী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হবে।

আজ (শুক্রবার) সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বৃহত্তর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

আজ সকালে শাহবাগে এক সমাবেশ থেকে ধর্ষণবিরোধী একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা। এরই অংশ হিসেবে আজ লংমার্চ শুরু হলো।

লংমার্চের অন্যতম আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল জানান, "শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে গুলিস্তান গিয়েছি। এরপর আমরা বাসে করে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও সোনারগাঁও, কুমিল্লার চান্দিনা ও শহর, ফেনী, ফেনীর দাগনভূঞা, নোয়াখালীর চৌমুহনী ও একলাশপুরে যাব। পথে কয়েকটি সমাবেশ হবে।

শনিবার বিকেলে নোয়াখালীর মাইজদীতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে।" ছয়টি বাস ও একটি পিকআপে প্রায় ৪০০ মানুষ এই লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’–এর নয় দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পদত্যাগ, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করা, সিডো সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ; ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, সাহিত্য-নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করা, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা এবং সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চাকে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা; তদন্তের সময়ে ভুক্তভোগীকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাঁর আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধবিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করা, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা।

ধর্ষণের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ, বিক্ষোভ

এদিকে, হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর আমীর ও সম্মিলিত ইসলামিক দলের সমন্বয়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমি বলেছেন, সরকার যদি দেশে খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধ করতে না পারে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। সরকার নানাভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য সকল দলের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার আহ্বান জানান কাসেমি।

আজ জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সম্মিলিত ইসলামিক দলের ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নূর হোসাইন কাসেমি আরো বলেন, সারাদেশ ধর্ষণের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। যারা এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা সরকারি দলের বিভিন্ন পদ-পদবি বহন করে। এ সময় ধর্ষণ প্রতিরোধে তিনি সরকারের কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।  সমাবেশে বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

এদিকে, গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেনজনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরলে দেশে ধর্ষণ থেকে মুক্তি মিলবে।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম দল আয়োজিত ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী মানববন্ধনে একথা বলেন তিনি। 

এসময় গণতন্ত্র ফিরয়ে দিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিও তোলেন আহ্বান জানান লাগাতার আন্দোলনের। বলেন, যতদিন মধ্যবর্তী নির্বাচন না আসবে, ততদিন রাজপথে থাকতে হবে। আন্দোলন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শও দেন বক্তারা।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য