অক্টোবর ২৭, ২০২০ ১৩:০৩ Asia/Dhaka
  • হাজি সেলিমের ছেলে ইরফানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় র‍্যাব সদস্যরা
    হাজি সেলিমের ছেলে ইরফানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় র‍্যাব সদস্যরা

ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাগারে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ মামুন আজ (মঙ্গলবার) সকালে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরফান ও জাহিদকে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায় র‍্যাব। দুজনকে দিবাগত রাত ১২টার পর কারাগারে নিয়ে আসেন র‍্যাবের সদস্যরা।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জানান, ইরফান ও জাহিদকে কারাগারের সাধারণ সেলের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান

অবৈধ ওয়াকিটকি ও মাদক রাখার দায়ে গতকাল মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ সকালে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তিনিই যত বড় ক্ষমতার অধিকারী হোন না কেন। ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আগেও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকার বরাবরই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই করব।’

হাজি সেলিমের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, মাদক, দুরবিন, ওয়াকিটকি, ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

ইরফান সেলিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় সাংসদ হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম এ বি সিদ্দিক ওরফে দিপু। তিনি হাজি সেলিমের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক আজ সকালে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আজিমুল হক বলেন, এ বি সিদ্দিক ওরফে দিপুকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

তার আগে গতকাল এই মামলায় গ্রেফতার হন-ইরফান সেলিম, তাঁর দেহরক্ষী মো. জাহিদ ও গাড়িচালক মিজানুর রহমান।

নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ইরফান ও তাঁর তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়। মামলাটি করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহম্মেদ খান। এরপর শুরু হয় পুলিশ ও র‍্যাবের তৎপরতা।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় র‍্যাব পুরান ঢাকার বড় কাটরায় হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান শুরু করে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, মাদক, দুরবিন, ওয়াকিটকি, ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি সেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। পরে একই এলাকায় আশিক টাওয়ারে পৃথক আরেকটি ভবনে অভিযান চালায় র‍্যাব।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহম্মেদ খানকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন ইরফান ও তাঁর লোকজন

দিনব্যাপী অভিযানকালে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফানকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। আর অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে দেন ছয় মাসের কারাদণ্ড। দুই মামলায় মোট দেড় বছর সাজা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আজ পৃথক মামলা করার কথা র‍্যাবের।

রোববার রাতে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহম্মেদ খান। সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত একটি গাড়ি তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। ওই গাড়িতে ছিলেন হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান এবং তাঁর লোকজন। ওয়াসিফ নিজের পরিচয় দিয়ে গাড়িটিকে থামতে ইশারা করেন ও কথা বলতে চান। তখন তাঁকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন ইরফান ও তাঁর লোকজন।

পরে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গাড়ি ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মোটরসাইকেল ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ

মন্তব্য