অক্টোবর ২৯, ২০২০ ১৮:১২ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হবার পর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর কয়েকদফা ছুটি বাড়িয়ে তা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছিল। সর্বশেষ দফায় আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে গত মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আমরা বাধ্য হয়েছি। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।'

এ সময় তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুকূল হলে সীমিত পরিসরে (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) খোলার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে তাদের কিছুসময়ের জন্য হলেও ক্লাসে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। তবে তাও নির্ভর করছে শীতকালীন করোনা পরিস্থিতির ওপর।

এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে এরই মধ্যে এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের এইচএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। সবশেষ প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ ছাড়াই অটো প্রমোশনের  ঘোষণাও দিয়েছেন সরকার।

এ প্রসঙ্গে সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন রেডিও তেহরানকে বলেছেন, সরকার করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেছেন, করোনার মধ্যে অফিস-আদালত, কল-কারখানা, বাজার-ঘাট, সড়ক-রেল-বিমান সব খুলে দেয়া হলো আর শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বাইরে রাখা হলো; তাদের অটো পাস দেয়া হলো। এর মাধ্যমে সরকার জাতির শিক্ষা জীবনে একটা স্থায়ী ক্ষতি সাধন করছে।

ওদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের এবং কারিগরি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি। তিনি বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে, কারিগরি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য জোর প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এটি চূড়ান্ত একটি পরীক্ষা। তাই তাদের (শিক্ষার্থী) যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন না হয়, (তাহলে) পরবর্তীতে চাকরি বা কর্মসংস্থানে তাদের সমস্যা হতে পারে। আর কারিগরি শিক্ষার্থীদের বিশেষ মূল্যায়নের সুযোগ নেই।

ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এই জায়গায় পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করাটা মনে হয় না সঠিক হবে। পরিস্থিতি যা আমরা এখনো মনে করছি, পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে। যেহেতু এইচএসসির তুলনায় কারিগরিতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক কম, সেহেতু পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের এই পরীক্ষা আমরা নিয়ে নিতে পারব। সে বিষয়ে পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।’#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ

মন্তব্য