অক্টোবর ২৯, ২০২০ ১৯:০৮ Asia/Dhaka
  • ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বিএনপিকে সহযোগী শক্তি হিসেবে দেখতে চায়। সরকারের দূরতম কোনো ইচ্ছ নেই বিএনপিকে দুর্বল করার। বিএনপি নিজেই নিজেদের ক্ষতির জন‌্য যথেষ্ট।

আজ (বৃহস্পতিবার) পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ওপর খাতওয়ারি আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সরকার বিএনপিকে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকায় দেখতে চায়। পেতে চায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সহযোগী শক্তি হিসেবে।”

তিনি বলেন, “কোনো দলকে রাজনীতি বিমুখ করা শেখ হাসিনার সরকারের কাজ নয়। কোনো দল অন‌্য দলকে বি-রাজনীতিতে নিতে পারে না যতক্ষণ ওই দল জনগণের কথা বলে, জনসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকে। বিএনপপির জনবিরোধী ভূমিকা তাদের আত্মবিশ্বাসে চির ধরিয়েছে। তাদের সিনিয়র নেতারা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থায়। দলের মহাসচিবের বাসায় হামলা করেছে কর্মীরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “শেখ হাসিনার সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। জনগণের আস্থা নিয়েই এগিয়ে চলেছে সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে। এ অগ্রযাত্রায় বিরোধীদলের ভূমিকা অত‌্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিএনপি তাদের ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে মিথ‌্যা অপবাদ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ওপর।

মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিলুপ্ত: মির্জা ফখরুল

ওদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতকে সহ্য করার যে সহনশীলতা তা ধীরে ধীরে একেবারেই বিলুপ্ত  হয়ে যাচ্ছে।’

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী উৎসবের শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন আইনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে দেখেছি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদকর্মী তাদেরকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, তাদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং তাদেরকে অনেক সময় কারাগারে যেতে হয়েছে, সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ সংস্থাগুলো অনেক সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেশের এই দুঃসময় একদিকে যখন করোনাভাইরাস আমাদের সমগ্র বিশ্বকে একেবারে গ্রাস করে ফেলেছে, মানব সভ্যতাকে বাধা প্রদান করেছে এই সময়ে আপনারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে যারা আজকে সমস্ত বিপদকে সামনে নিয়ে যারা লড়াই করছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

ডিআরইউ’র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিভাজনের চিন্তাভবনার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সর্বক্ষেত্রে, শুধু রাজনীতি অঙ্গনে নয়, সর্বক্ষেত্রে তার একটা কুফল আমরা দেখতে পারছি। যার ফলে সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হচ্ছে এবং এটা আমাদের জন্য খুব বেশি সুখকর বিষয় নয়, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা খুব আনন্দময় বিষয় নয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এখন পর্যন্ত তারা যেভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আশার একটা আলো দেখায়। ’

বক্তব্য শেষে বিএনপি মহাসচিব ডিআরইউ’র শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি সেগুনবাগিচার কার্যালয় থেকে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউট এসে শেষ হয়।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ

মন্তব্য