নভেম্বর ১১, ২০২০ ১৩:১০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ‘চাতুরিপূর্ণ সাফল্য’কে সমালোচনা করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তথ্য প্রকাশে বিধি-নিষেধ আরোপের মাধ্যমেও অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে আড়াল করার প্রবণতা দেখতে পেয়েছে টিআইবি।

'করোনা সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ- দ্বিতীয় পর্ব'- শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে টিআইবি দাবি করেছে, সেবা ও নমুনা পরীক্ষা হ্রাস করার মাধ্যমে শনাক্তের সংখ্যা হ্রাস হওয়াকে ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ’ হিসেবে দাবি এবং রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদন বলা হয়েছে, করোনা সংকটকালে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি এই সংকটকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতির সুবিধাভোগী এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যক্তিবর্গ দুর্নীতির মহোৎসবে নেমেছে।

ডা. রশিদ-ই-মাহবুব

এ প্রসঙ্গে ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ-এর আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. রশিদ-ই-মাহবুব রেডিও তেহরানকে বলেন, যেকোনো মহামারির সময় অপরাধ ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকা দরকার। আর বাংলাদেশের মতো দেশের সীমিত সম্পদ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘাটতি থাকবে এটাও স্বাভাবিক। তবে এটা নিয়ে তথ্য গোপন বা চাতুরির আশ্রয় নেয়াটা কাম্য নয়।

টিআইবির গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তে পরীক্ষাগার ও নমুনা পরীক্ষায় ঘাটতি রয়েছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে ঘাটতি এবং পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়নেও ঘাটতি দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় নতুন করে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করলেও বাংলাদেশে কোভিডের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি হাসপাতালে রোগী না থাকার কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম বাতিল করে সাধারণ চিকিৎসা চালুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সময় দেশে কোভিড চিকিৎসার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, এখনো বাংলাদেশের জেলা পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সক্ষমতার ঘাটতি রয়ে গেছে।

টিআইবি’র গবেষণায় নমুনা পরীক্ষায়ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। যাচাই না করে লাইসেন্সবিহীন এবং ভুয়া হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা পরীক্ষা করার চুক্তি সম্পাদন করেছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়। এভাবে এই প্রতিষ্ঠান সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

গবেষণা অনুযায়ী- এখনো নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে ৩৪.৪ শতাংশ সেবা গ্রহীতাকে তিন বা ততোধিক দিন অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়াও জরিপে সেবাগ্রহীতাদের ৯.৯ শতাংশ নমুনা পরীক্ষায় ভুল প্রতিবেদন পাচ্ছেন। যথাসময়ে প্রতিবেদন না পাওয়ায় অনেক প্রবাসীর কর্মক্ষেত্রে ফেরার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

সাংবাদিক সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন।

এসময় সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে ১৫ দফা সুপারিশ প্রদান করে সংস্থাটি।

এদিকে মঙ্গলবার ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ‘কল ফর অ্যাকশন: ইন সাপোর্ট অব মাল্টিলেটারালিজম’ শীর্ষক এক উচ্চ-পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা মহামারি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেকে নিরাপদ নয় ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নন।

তাছাড়া, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, করোনা সংক্রমণ আগের চেয়ে একটু বাড়ছে। তাই সবার মাস্ক পরতেই হবে। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে যা যা করার সরকারের তাই করতে হবে। নইলে হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে গেলে তখন সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম ব্যবস্থা।#

পার্সটুডে/‌আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ