ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১ ১২:২৬ Asia/Dhaka

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

এদিকে, গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির প্রতিজ্ঞা করেছেন, বিচার শেষ না হওয়ার আগে ছেলের কবর দেখতে যাবেন না। চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। বুকে পাথর বেঁধে তবুও বিচারের আশা ছাড়ছেন না। স্বজনদের প্রশ্ন- অনেক আলোচিত মামলার বিচার শেষ হচ্ছে; সাগর-রুনী হত্যা মামলাটির বিচার শেষ হচ্ছে না? সাংবাদিক হত্যার বিচার হলো না, এটা কেমন কথা!

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সালেহা মনির বলেন, মুজিববর্ষে অনেক কিছু হচ্ছে। মুজিববর্ষে সাগর-রুনি হত্যার সুরাহা করতে পারলে এটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। সাংবাদিক সমাজকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাগর-রুনি হত্যার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সে সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তদন্তে ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ আছে বলেও তৎকালীন পুলিশপ্রধান মন্তব্য করেছিলেন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত শুরু করেন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহুরুল ইসলাম। চার দিনের মাথায় মামলা হাতবদল হয় ডিবি পুলিশের কাছে।

সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত সমাবেশে সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ।

এরপর হাইকোর্ট বিভাগের এক রিট পিটিশনে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরের দিন ১৯ এপ্রিল র‍্যাব সদর দপ্তরের সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. জাফর উল্লাহ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন।

দায়িত্ব নিয়েই সাগর ও রুনির মরদেহ কবর থেকে তুলে এনে আবারও ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষা করে র‍্যাব। বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও তদন্ত আর এগোয়নি। সেই থেকে র‍্যাব নতুন করে আর কিছুই জানাতে পারছে না।

র‍্যাবের তদন্ত  কর্মকর্তা মো. জাফর উল্লাহ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ায় ২০১৪ সালের ১২ মার্চ এ মামলার তদন্তভার পান র‍্যাব সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়ারেছ আলী মিয়া। মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দিও রেকর্ড করেন তিনি।

২০১৫ সালের মাঝামাঝি র‍্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহম্মদ এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি মামলার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০১৮ সালের র‍্যাব ব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সহিদার রহমানের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম। তিনি আগের সাক্ষীদের পর্যালোচনা করে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছন, “আমরা পরিকল্পিতভাবে তদন্ত করছি। আশা করছি শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।”#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১

ট্যাগ