ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২১ ১৮:১৯ Asia/Dhaka

জাতিসংঘের গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের সদ্য সমাপ্ত বৈঠকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক নিরুদ্দেশ করা বা গুমের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটিগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের ভাষ্য, এ দেশের আইনে ‘গুম’ বলে কিছু নেই। গতকাল শুক্রবার জেনেভায় সমাপ্ত পাঁচ দিনব্যাপী গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ৩৬টি দেশের ছয় শতাধিক গুমের অভিযোগের মধ্যে বাংলাদেশেরও অনেকগুলি অভিযোগ আলোচিত হয়েছে। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পাঁচজন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। এর আগে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশে গুমের অভিযোগ  পর্যালোচনা করা হয়।  

গত সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকে ব্লগার আসাদুজ্জামান নূরের (আসাদ নূর) আইনজীবীকে হুমকি ও  হয়রানি করা নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ সরকারকে চিঠি দিয়েছিল।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষ্যে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৪৪ ব্যাক্তিকে গুম করা হয়েছে। পরবর্তিতে এদের মধ্যে ৪৪ জনের মৃত দেহ পাওয়া গেছে এবং ৬০ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। বাকিদের মধ্যে ৩৫ জন বাড়িতে ফিরে এসেছে । 

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলান রেডিও তেহরানকে বলেন, গুম হওয়া ব্যাক্তিদের ফিরে পেতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন তাদের স্বজনেরা। তাদের পরিবার  দায়ী করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। থানায় মামলা করেও সুরাহা হয়নি। আর সবচেয়ে বেদনার কথা হল সরকার গুমের কথা বেমালুম  অস্বীকার করে আসছে।

২০২০ সাল শেষে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে গুমের অব্যাহত অভিযোগ নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ উদ্বিগ্ন। ওয়ার্কিং গ্রুপ গুমের যে সব অভিযোগ পেয়েছে তার অনেকগুলোই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে দৃশ্যত দায়মুক্তির চর্চা নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশ নিয়ে পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ বলেছে, গত বছর ওয়ার্কিং গ্রুপ অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইলেও বাংলাদেশ সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ১৯৯৬ সালে ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশের কাছে প্রথমবারের মতো একটি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। এত বছরে মাত্র একটি ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া, ২০১৩ সাল থেকে গুমবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ সফরের অনুমতি দিতে বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছে। এসব অনুরোধে এখন ইতিবাচক কোন সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ।##

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ