মার্চ ০৪, ২০২১ ২০:৪৭ Asia/Dhaka
  • ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর
    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর

সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সীমান্ত হত‌্যাকে দুঃখজনক বলে মন্তব‌্য করে বলেছেন, ‘সীমান্তে নো ক্রাইম নো কিলিং। আমরা চাই না, একজন মানুষও মারা যাক।’

আজ (বৃহস্পতিবার)  একদিনের সফরে ঢাকা এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

যৌথ নদির পানি বণ্টন প্রসঙ্গে  জয়শঙ্কর বলেন, ‘ ভারত আগের অবস্থানে রয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে আমরা সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি। এই বিষয়ে আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’ তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ ও ভারতের পানি সম্পদ সচিবদের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় আসছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের পরবর্তী সময়ে মোদির এটাই প্রথম বিদেশ সফর।’ জয়শঙ্কর বলেন, ‘এ সফরে বাংলাদেশ-ভারতের সব সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ আমাদের দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ আমাদের কাছে শুধু একজন প্রতিনিধি নয়, সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। আমাদের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, আমরা শুধু আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো সংকটের সমাধান করতে পারি।’ জয়শঙ্কর উন্নয়নশীল দেশের স্ট্যাটাস পাওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পূর্ণ নিজের কাজ ও যোগ্যতায় এটি অর্জন করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারতে। আর এ দুদেশের মধ্যে উন্নয়নকে কেন্দ্র করে অনেক সম্ভাবনা আছে। সেটা খুঁজে বের করতেই এ সফরে আসা।’

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিরাপত্তা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্য, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে আজ সকালে জয়শঙ্কর ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকায় বিএএফ বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও বৈঠক করেন।

মোদির সফরের প্রতিবাদ

ওদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন যে কোন মূল্যে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মশাল মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মশাল মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে শুরু হয়ে শামসুন্নাহার হল শাহবাগ প্রদক্ষিণ করে কাঁটাবন মোড় হয়ে টিএসসি এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সভাপতি অনিক বলেন, এই তথাকথিত স্বাধীনতার মাসে গুজরাটের কসাই নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আসছে। আমরা বাংলাদেশের জনগণ এবং আমাদের সহযোদ্ধাদের নিয়ে গুজরাটের কসাই, দক্ষিণ এশিয়ার শত্রু মোদিকে ঠেকাব এবং তার এদেশীয় দালাল সরকার হাসিনাকে উৎখাত করব। এর মাধ্যমেই কেবল আমরা আমাদের কমরেডদের মুক্ত করতে পারি এবং বাংলাদেশকে মুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।#

পার্সটুডে/আব্দুুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

ট্যাগ