মার্চ ০৬, ২০২১ ১৭:১২ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের অনিয়ম-দুর্নীতি:  সংশ্লিষ্ট মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের অনিয়ম-দুর্নীতির কাহিনীগুলো এখন সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে ।

এ রকম  ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়মসহ বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি। ইতো মধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্দে তদন্তের পর সে বিষয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমাও দেয়া হয়েছে। তবে তদন্তে প্রমাণও মিললেও সংশ্লিষ্টদের  কাছে  ব্যাখ্যা  চাওয়ার মধ্যেই  আটকে  থাকছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভিসিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আর বাকি যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে  তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে।  নিয়োগের ক্ষেত্রে  দেখা যায় পছন্দের প্রার্থীর জন্য নিয়োগের নিয়মকানুন শিথিল করা হচ্ছে। আবার যে যে পদের যোগ্য নয়, তাকে সে পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠছে, অনিয়ম দৃশ্যমান হওয়ায় সেগুলো প্রমাণের জন্য অনেক সময় তদন্তেরও প্রয়োজন হয় না। তদন্তেও এক ধরনের কালক্ষেপণ হচ্ছে। সম্প্রতি যেসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর  বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ৪০টিরও বেশি অভিযোগ রয়েছে।  এসব অভিযোগ তদন্ত করছে ইউজিসির দুটি দল। এরই মধ্যে একটি দল তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে বেরোবির উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে তা 'মিথ্যা ও বানোয়াট।’  তিনি বরং পালটা অভিযোগ করে বলেছেন,  শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্রয়, প্রশ্রয় এবং আশকারায় তার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ উঠেছে এবং সে প্রেক্ষিতে ইউজিসি তদন্তে নেমেছে। ইউজিসি  আরো যে সব  পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে  তার মধ্যে রয়েছে, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম প্রসঙ্গে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, আসলে উপাচার্যদের অনিয়ম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা সমাজের সার্বিক চিত্রের একটি প্রতিফলন। যদিও বিপথগামী সমাজের পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় থাকার কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন,  একজন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার জন্য দৃষ্টান্ত হওয়ার কথা। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা দৃষ্টান্ত রাখছেন ঠিকই, সেটি অনিয়মের। জবাবদিহিতা না থাকার কারণে উপাচার্যরা এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক গনমধ্যামকে  বলেছেন, অনিয়ম করে কারোরই পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে একটি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন পড়ে। অনেক সময় সে প্রক্রিয়ায় কিছু সময় লাগে। সময় লাগাটা স্বাভাবিক। #

 

 

 

 

পার্সটুডে/আব্দুুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

 

ট্যাগ