মে ০৯, ২০২১ ১৬:২০ Asia/Dhaka
  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রেস্তোরাঁ নির্মাণ: আদালত অবমাননা মামলার আবেদন

বাংলাদেশের রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল নকশার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ, উদ্যান সংরক্ষণ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এই উদ্যানকে মূলরূপে সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন পরিবেশবাদী ছয়টি সংগঠন ও একজন ব্যক্তি। আগামী ১৯ মে বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

রিট আবেদনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গাছ কাটা হয়েছে তার পরিবর্তে ৩ গুণ গাছ লাগানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কেটে রেস্তোরাঁ নির্মাণ করায় সরকারের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে।

আজ (রোববার) হাইকোর্টের সংশ্লিস্ট শাখায় অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এ মামলা করেন। মামলায় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার এবং প্রধান আর্কিটেক্ট অব বাংলাদেশ মীর মনজুর রহমানকে বিবাদী করা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট উদ্যান সংরক্ষণে কয়েকদফা নির্দেশনা দেন। ওই রায়ে বলা হয়, ‘রমনা তথা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা নিছক একটি এলাকা নয়। এই এলাকাটি ঢাকা শহর পত্তনের সময় হতেই এ পর্যন্ত একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে পরিগণিত। এর একটি ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্যও আছে।’

রায়ে বলা হয়, ‘আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্র এই এলাকা। এই পরিপ্রেক্ষিতেও সম্পূর্ণ এলাকাটি একটি বিশেষ এলাকা হিসাবে সংরক্ষণের দাবী রাখে। এখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকা উচিত নয়, যা এই এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারে।’

রায়ে আরো বলা হয়, ‘পরিবেশগত দিক হতে রমনার উদ্যান বা রমনা রেসকোর্স ময়দান ঢাকা শহরের ফুসফুসের ন্যায় অবস্থান করছে। কোনভাবেই এটাকে রোগাক্রান্ত করা যায় না। যেহেতু স্মরণ কাল হতেই এটা উদ্যান হিসেবে পরিচিত, এ কারণে ২০০০ সালের ৩৬ নম্বর আইন অনুসারে সোহরাওয়ার্দী ‘উদ্যান’ সংজ্ঞার আওতাধীন এবং এই জায়গার শ্রেণি সাধারণভাবে অপরিবর্তনীয়। এটাকে অনাবশ্যক স্থাপনা দ্বারা ভারাক্রান্ত করা অবৈধ হবে।’

উচ্চ আদালতের এই রায় উপেক্ষা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যে ব্যবসায়িক স্বার্থে রেষ্টুরেন্ট/দোকান প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবেশ ধ্বংস করে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। যা আদালত অবমাননার শামিল বলে  উল্লেখ করেছেন আইনজীবী মঞ্জিল মোরসেদ।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

ট্যাগ