মে ১৭, ২০২১ ২৩:৩৯ Asia/Dhaka
  • ড. হাছান মাহমুদ
    ড. হাছান মাহমুদ

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ফিলিস্তিনে যখন ইসরাইল কর্তৃক মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হচ্ছে, নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে; তখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিশ্চুপ। ফিলিস্তিনি জনতার ওপর অব্যাহত ইসরাইলি বোমা হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো নীরব কেন?”

হাছান মাহমুদ বলেন, “হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এত কিছু ওয়াচ করে আর এখন পৃথিবীর সমস্ত টেলিভিশন যে এই বর্বরতা দেখাচ্ছে, সেটা তাদের চোখে পড়ে নাই, কোনো বিবৃতিও তাদের নাই।’ পান থেকে চুন খসলেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দেয়, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে, শহীদুল হকের পক্ষেও বিবৃতি দিয়েছে। কিন্তু আজকে যখন ফিলিস্তিনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে, তখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কোনো অফিশিয়াল বিবৃতি আমরা দেখতে পাইনি। তাদের মিডল ইস্ট এবং নর্থ আফ্রিকার অঞ্চলের একজন উপপরিচালক একটি বার্তা সংস্থার সাথে আলাপকালে কিছু কথা বলেছেন, কিন্তু তাদের অফিশিয়াল কোনো বিবৃতি নাই।’ এ ধরনের অপরাধের সময় যারা নিশ্চুপ থাকে এবং দেখতে পায় না, তাদের আসলে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার নৈতিক অধিকার থাকে কি না, এটি একটি বড় প্রশ্ন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম

সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

এদিকে, ইহুদিবাদী ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত অবসানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে রক্তক্ষয় বন্ধের জন্য আমেরিকাকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আজ ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে বাংলাদেশের এ আহ্বান জানান।

পরে সাংবাদিকদেরকে শাহরিয়ার আলম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাতে বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ওআইসির নির্বাহী কমিটির সাম্প্রতিক এক বৈঠকে বিষয়টি সমাধানে যে নিরাপত্তা পরিষদের এগিয়ে আসা উচিত, তা বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশ ভূমিকা পালন করে যাবে। তবে আমরা মনে করি, সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। গতকাল রোববার ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও বাংলাদেশ বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকেই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের ত্বরিত পদক্ষেপ সংকট মোকবিলায় সহায়তা করতে পারে।’

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতির বিষয়টি তিনি ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছেন।

জেরুজালেমে ইসরাইলের রাজধানী প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস চালুর বিষয়ে দুই বছর আগে ওআইসি বিরোধিতা করেছিল। অতীতের মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা যে সংকটকে ঘনীভূত করেছে, সেটিও আলোচনার সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ