জুন ১১, ২০২১ ১১:৪৯ Asia/Dhaka
  • রামেকের করোনা ইউনিটে আরও ১৫ জনের মৃত্যু, রাজশাহীতে ৭ দিনের লকডাউন

প্রাণঘাতি করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে বাংলাদেশের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আর বাকি আটজন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে হাসপাতালের আইসিইউতে ছয়জন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন, ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুইজন করে এবং ১৬ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন মারা গেছেন করোনায়। অন্য আটজন মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে। করোনায় মারা যাওয়া সাতজনের চারজন রাজশাহীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন এবং একজন নাটোরের বাসিন্দা। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে যে আটজন মারা গেছেন তার মধ্যে চারজন রাজশাহীর এবং চারজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপপরিচালক আরও বলেন, ২৭১ শয্যার রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ২৯৭ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ১৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন। এই একদিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২৫ জন।

এর আগে গত ২৪ মে ১০ জন, ২৫ মে ৪ জন, ২৬ মে ৪ জন, ২৭ মে ৪ জন, ২৮ মে ৯ জন, ৩০ মে ১২ জন, ৩১ মে ৪ জন, ১ জুন ৭ জন, ২ জুন ৭ জন, ৩ জুন ৯ জন, ৪ জুন ১৬ জন, ৫ জুন ৮ জন, ৬ জুন ৬ জন, ৭ জুন ৭ জন, ৮ জুন ৮ জন, ৯ জুন ৮ জন এবং ১০ জুন ১২ জন রামেক হাসপাতালে মারা গেছেন।

এদিকে, আজ (শুক্রবার) থেকে রাজশাহী মহানগরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে কার্যকর হবে এ লকডাউন। শুধু মহানগর এলাকায় এ লকডাউন চলবে আগামী ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশ জারি করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল।

এর আগে রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজশাহীর সার্কিট হাউসে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক বসে। সেখান থেকেই এ ঘোষণা আসে।

এ সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা তাতে অংশ নেন। ওই বৈঠকে সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে- লকডাউন চলাকালে সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিংমল, দোকান রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকবে। তবে ওষুধ, কাঁচাবাজার, চিকিৎসাসেবা, মরদেহ দাফন ও সৎকারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান এর আওতাবহির্ভূত থাকবে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ