জুন ২২, ২০২১ ১৮:৩০ Asia/Dhaka
  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ একে আব্দুল মোমেন
    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ একে আব্দুল মোমেন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ একে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের বলেছেন, টিকা নিয়ে সুখবর পাবো কিন্তু কবে পাবো সেটি এখন বলতে পারছি না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের টিকা প্রাপ্তি নিয়ে বলেন, আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে সবাই। আমি বলি মুলা দেখাচ্ছে সবাই। সবচেয়ে বড় সমাধান হবে যখন আমরা নিজেরাই টিকা তৈরি করব। নিজেরা টিকা তৈরি করলে আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না। টিকা এখন কূটনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধনী দেশগুলো টিকা নিয়ে বসে রয়েছে। তাদের যত জনসংখ্যা, তার থেকে বেশি টিকা রয়েছে তাদের কাছে। অনেকে বলে যে দেবো কিন্তু কেউ দেয় না। শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। আবার দেওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করে যে অমুক জিনিসে আমাকে সমর্থন দেবেন কিনা। এখন দেখা যাচ্ছে এটিকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফাইজারের টিকাদান শুরু

কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের মাধ্যমে আর এক দফায় শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকাদান কর্মসূচি।

সোমবার (২১ জুন) রাজধানী ঢাকার তিনটি হাসপাতালে ফাইজারের এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে, গত ৩১ মে মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি এক লাখ ৬২০ ডোজ টিকা পায় বাংলাদেশে।

বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ কর্মসূচির উদ্বোধন করে  জানান, ‘যারা সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেও এখনও পর্যন্ত এক ডোজও টিকা নিতে পারেননি, তারাই এই টিকা নিতে পারবেন।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিন নেওয়ার পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও প্রয়োজন মতো হাত ধুতে হবে।’ এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে করোনা টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে জাতীয়ভাবে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এদিকে, চীনের সিনোফার্মের তৈরি উপহার হিসেবে পাওয়া দশ লাখ ডোজ টিকা নিয়ে  গত ১৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে আর একদফা টিকাদান কর্মসুচি।   

ঢাকায় ৭১ শতাংশ মানুষের মধ্যে আ্যান্টিবডি তৈরি; চার মাস আগের খবর

এদিকে, দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মাঝে চার মাস আগে পরিচালিত এক সমীক্ষার  ফলাফল প্রকাশ করে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীরা আজ জানিয়েছেন , ঢাকায় ৭১ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৫৫ শতাংশ মানুষের দেহে আ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআর,বি।

আজ  মঙ্গলবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও আন্তর্জাতিক উদারময় গবেষনা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) আয়োজিত এক যৌথ ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে এ সমীক্ষা ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

সমীক্ষাটি ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাসব্যাপী পরিচালিত এ গবেষণায় জানা গেছে, বয়স্ক ও তরুণদের দেহে সেরোপজিটিভিটি (অ্যান্টিবডি তৈরির পরিমাণ) হার প্রায় সমান। মহিলাদের মধ্যে এ  হার ৭০.৬ শতাংশ, যা পুরুষদের (৬৬ শতাংশ) তুলনায় বেশি।

যেসব অংশগ্রহণকারীদের (মোট ২২০৯) মধ্যে সেরোপজিটিভিটি পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে শুধুমাত্র ৩৫.৫ শতাংশের ক্ষেত্রে মৃদু উপসর্গ দেখা দিয়েছিল।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনবসতিপুর্ণ দুই মহানগরীর বস্তি এবং বস্তির বাইরে বসবাসকারীদের রক্তে কভিড-১৯ এর উপস্থিতি এবং তার সম্ভাব্য কারণ নির্ণয় করা।

গবেষণাপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প শিক্ষিত, অধিক ওজন, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্তদের মধ্যে অধিক মাত্রায় সেরোপ্রিভেলেন্স (রক্তে কোভিড উপস্থিতির হার) দেখা গিয়েছে। তবে, বার বার হাত ধোয়ার প্রবণতা, নাক-মুখ কম স্পর্শ করা, বিসিজি টিকা গ্রহণ এবং মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করেন এমন ব্যক্তিদের  মধ্যে কম মাত্রার সেরোপ্রিভেলেন্স দেখা গেছে।#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/  বাবুল আখতার/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

 

ট্যাগ