জুলাই ২৪, ২০২১ ১৮:১৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এবছর তেমন একটা কেলেঙ্কারির খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ট্যানারি মালিকরা বলেছেন, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনছেন।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সারাদেশে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক পশু কুরবনি হয়েছে। তবে, কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খুব একটা সুবিধা করতে পরেনি। অন্য বছরের মতো এবার কাঁচা চামড়াও তেমন নষ্ট হয়নি। করোনার কারণে সীমান্ত বন্ধ থাকায় চামড়া পাচারের সুযোগ নেই।

ঢাকায় চামড়ার পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র পুরান ঢাকার পোস্তায় মাঝারি আকারের গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ বছর তাঁরা প্রতিটি চামড়ার দাম গত বছরের চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি পেয়েছেন। যদিও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে।

কুরবানির চামড়া প্রসঙ্গে রংপুর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ খান রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকার নির্ধারিত রেটে যাতে তারা চামড়া বিক্রয় করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের বকেয়া পাওনা আদায়ের ব্যাপারেও তিনি দাবী জানান। একই সাথে রংপুর বিভাগে তিস্তা নদী এলাকায় একটি ট্যানারি স্থাপনের দাবি জানান রংপুর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি । 

ঢাকার বাইরের ব্যাবসায়িরা জানিয়েছেন, তারা লবণ মাখানো চামড়া সংগ্রহ করে গুদামজাত করে রাখছেন। ঢাকা থেকে ট্যানারি মালিকরা এখনো তা কিনতে আসেনি।

এবার কোরবানির এক সপ্তাহ আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়  চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঢাকা মহানগরীর মধ্যে এবার প্রতি বর্গফুট চামড়ার মূল্য ২ টাকা বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ২ টাকা বাড়িয়ে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।

সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জন্য দেশে ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য চার হাজার ৭৬৫ পশুসহ মোট এক কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু মজুদ ছিল।

তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ জানানো হয়েছে, চলতি বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে পশু কোরবানি করা হয়েছে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার। এ বছর অনলাইনে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।

চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে  বছরে  ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়৷ তার মধ্যে ৬০ ভাগ চামড়া আসে এই কোরবানির ঈদে৷ এই চামড়াকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

এদিকে, এবছরও রাজধানীর পাড়ায়-মহল্লায় কম দামে চামড়া বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে অন্যান্য জেলা থেকেও। স্থানীয় পর্যায়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কম দাম হাঁকায় বিপর্যয়ের শঙ্কা থেকে অনেকে চামড়া মসজিদ-মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন। এবার ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার চাহিদা একদমই নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার আড়ত রাজধানীর পোস্তগোলায় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, গতবারের মতো এবারো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ হবে না ।  

চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান রিয়াজ উদ্দিন ট্রেডাসের মালিক মো. রিয়াজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, করোনার জন্য আমাদের চামড়া রপ্তানি কমে গেছে। ফলে ট্যানারি মালিকরাও চামড়া কম নেবে। কারণ তাদের প্রচুর মজুদ রয়ে গেছে। যদি রপ্তানি বাজার ভালো হয়, তাহলে  চামড়ার দাম বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পর রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র হিসেব মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ছিল ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। #

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ট্যাগ