জুলাই ২৭, ২০২১ ১৮:১৪ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের  কঠোর লকডাইউনের মধ্যেও  করোনায় মৃত্যু এবং সংক্রমণের উর্ধগতির প্রেক্ষাপটে  প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা আজ  বলেছেন, দেশের সবাইকে সুরক্ষিত করতে টিকা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে যত টাকা লাগে এবং যত পরিমাণ ভ্যাকসিনের দরকার হয় আমরা কিনব।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আমরা দেশেই ভ্যাকসিন  তৈরি করব। যাতে মানুষের কোনো অসুবিধা না হয়। সেজন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ নেব।’

আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন।

করোনার টিকা  প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিন আনছি। এরই মধ্যে জনগণকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্যাপকভাবে জনগণকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। সবাই যাতে সুরক্ষিত থাকে। পরিবারের সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে আমি নির্দেশ দিয়েছি। বাসাবাড়িতে যারা কাজ করেন এমনকি গাড়ির চালকদেরও ভ্যাকসিন দিতে বলেছি। যতটা লাগে এবং যত পরিমাণ ভ্যাকসিনের দরকার হয়, আমরা কিনব। ভবিষ্যতে আমরা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে তৈরি করব। যাতে মানুষের কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ নেব।’

ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা প্রদান শুরু ৭ আগস্ট থেকে

মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুরে করোনা নিয়ন্ত্রণে করণীয় প্রসঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যে কেউই এনআইডি নিয়ে গেলেই টিকা নেয়া যাবে। টিকা দিতে পুর্বে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না।

এদিকে মিটিং-এর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলমান লকডাউন ৫ আগস্ট পর্যন্তই চলবে। শিল্পপতিরা লকডাউননের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন, আমরা সেই দাবি রাখতে পারছি না।

দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পুলিশ প্রধান, বিজিবি প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট দফতর ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে, করোনার নতুন হট স্পট হয়ে উঠেছে দেশের ১১টি  জেলা। এসব জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে শুরু করেছে। এসব জেলায় তিন সপ্তাহ আগে শনাক্ত হার সর্বোচ্চ ৪৫ ও সর্বনিম্ন ২১ শতাংশ ছিল। এখন এসব জেলায় শনাক্ত হার এসে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৫৮ ও সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিকে উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাকে অগ্রাহ্য করা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও টিকার প্রতি আগ্রহী না হওয়ার কারণে গ্রামে সংক্রমণ বেড়ে গেছে। করোনা শুরুর পর গত বছর নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জসহ বেশকিছু জেলা করোনার হট স্পটে রূপ নেয়। পরে সেখানে সংক্রমণ কমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু এ মাসের প্রথম থেকে সারা দেশে আবারো সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে এসব পুরনো হট স্পটসহ ১১ জেলায় সংক্রমণ আবারো বেড়ে যায়। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, শরীয়তপুর, কুমিল্লা, গাইবান্ধা, ভোলা, বরগুনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ।#

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার /২৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

ট্যাগ