সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ১৭:৫৯ Asia/Dhaka

করোনা সংক্রমনের কারণে টানা দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছাত্র শিক্ষকদের বিপুল উৎসাহ ও আনন্দ কোলাহলের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রথম দিনের কর্মসুচী শুরু হয়েছে।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সুচনা করা হয় প্রথম দিনের শ্রেনীকক্ষের কাজ। বেলুন দিয়ে সাজানো হয় শ্রেনী কক্ষ। এসময়  ফুল চকোলেট দিয়ে দিয়ে স্বাগত জানানো হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে রোববার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি স্কুলড্রেস নিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপ না দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলার সময় ফটকের বাইরে ভিড় না কররার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানায় অবহেলা দেখা গেলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তরের যারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজিমপুর গার্লস স্কুল ও কলেজ  পরিদর্শনে গিয়ে  শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার দিন শ্রেণিকক্ষে ময়লা পাওয়ায় অধ্যক্ষকে  সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে ওই অধ্যক্ষের নেতৃত্বে গঠিত মনিটরিং টিমের সদস্য শিক্ষকদের ও মাউশির যে কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও শুরুতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস হবে। অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে একদিন ক্লাস করতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে যেদিন যে শ্রেণির ক্লাস থাকবে, সেদিন ওই শ্রেণির সর্বোচ্চ দুটি ক্লাস হবে। প্রাথমিকে হবে দিনে তিনটি করে ক্লাস। প্রাক-প্রাথমিক স্তরে সশরীর ক্লাস বন্ধ থাকবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি যদি অনুকূল হয়, তাহলে অষ্টম জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা হতে পারে। তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে এখন সশরীরে সপ্তাহে একটি ক্লাস হলেও অনলাইন, টিভি ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে পড়াশোনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার  সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠকে

ওদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মধ্য অক্টোবরের আগে খুলবে কিনা, তা পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর এ কথা জানান ডা. দীপু মনি।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে দীপু মনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উপাচার্যের সঙ্গে এর আগে আমাদের কথা হয়েছে। অন্তত সকল শিক্ষার্থী এক ডোজ টিকা নেওয়ার পর দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মধ্য অক্টোবর ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তাতে সকল উপাচার্যের সঙ্গে এই সপ্তাহেই বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা মনে করেন তারা অক্টোবরের আগেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তবে তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আমরা তাদের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করব।

বন্যার কারনে খুলছেনা  অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

তবে কয়েক্তি জেলায় বন্যা পরিশ্তহির কারনে সবগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ তাদের কার্ক্রম শুরু করতে পারেনি। মানিকগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যার কারণে অন্তত ১৬৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি ওঠে। গত কয়েক দিন ধরে দ্রুত বন্যার পানি কমতে থাকায় এর মধ্যে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঠদানের উপযোগী হয়ে উঠলেও দৌলতপুর, ঘিওর ও হরিরামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালইয়ের  মাঠে এবং শ্রেণিকক্ষে এখনো বন্যার পানি আটকে আছে । ফলে ওইসব বিদ্যালইয় আজ চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিদের দাবি, আগামী এক সাপ্তাহের মধ্যে বন্যার পানি নেমে গেলে এ সকল বিদ্যালয় পাঠদানের উপযোগী করে তোলা হবে।#

 

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

ট্যাগ