সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১ ১৪:৪৮ Asia/Dhaka

পরিবর্তশীল বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল গণভবনে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার খসড়ার ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন অবলোকনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার পর পরই দেশ বরেণ্য বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে শিক্ষা ব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণে এবং নীতিমালা প্রণয়নে জাতির পিতার শিক্ষা কমিশন গঠনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, সেই পদাংক অনুসরণ করেই ’৯৬ পরবর্তী সময়ে সরকারে এসে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া।

শিক্ষাক্রমে আসছে আর এক দফা পরিবর্তন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখার খসড়া উপস্থাপনের পর  শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি  গতকাল দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে  প্রস্তাবিত নয়া  কারিকুলামের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষাকে আনন্দময় করতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে পুরো কারিকুলাম, বাস্তবায়ন করা হচ্ছে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত কারিকুলামে পরীক্ষার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নকেও।

নতুন কারিকুলামে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে এসব শ্রেণিতে। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার আগে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। বাতিল হবে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও। বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসা বিভাগের বিভাজন থাকবে না নবম ও দশম শ্রেণিতে। সব শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে কারিগরির একটি ট্রেড কোর্স। আর একাদশ ও দ্বাদশের ফল সমন্বয় করে এইচএসসির ফল ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনার কারণে নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন বিলম্বিত হয়েছে। তা ছাড়া এটি আরও আগে শুরু করা যেত। নতুন কারিকুলামে পুরো শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষাকেন্দ্রিক ও আনন্দময়। বইয়ের বোঝা কমানো ও শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে চাপ কমানো আমাদের লক্ষ্য। ছাত্রছাত্রীরা যেন মুখস্থনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, ক্লাসে পড়ে শিখতে পারে এজন্য এ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে পাঠদান করতে চাই। এখন শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজের চাপ বেশি থাকে। এ চাপ যেন কম থাকে, তারা স্কুলেই যেন পড়াটা শিখতে পারে এজন্য কারিকুলাম করা হবে। তারা নির্দিষ্ট একটি স্তরে যেন নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে। সে পারদর্শিতা অনুযায়ী তাদের সনদ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধের দৃষ্টিভঙ্গি যেন শিখতে পারে এজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শেষে একটি সনদ পেল, ক্লাস এইট শেষে একটি সনদ পেল তার মানে যে প্রত্যেক ক্ষেত্রে সনদ দিতে হবে। আমি যদি ক্লাস শেষ করি সেখানেও তো সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। সনদের জন্য শিক্ষা নয়, পারদর্শিতা নিশ্চিত করতে চাই।

শিক্ষা মন্ত্রলণালয় সূত্র বলছেন, ২০২৩ সালে প্রাথমিকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং মাধ্যমিকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে এ কারিকুলাম চালু হবে। ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এ কারিকুলামে পাঠদান করা হবে। পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৫ সালে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরোটা কারিকুলামই বাস্তবায়ন করবে সরকার।#

 

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

 

 

 

 

ট্যাগ