সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১ ১৮:৫৩ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকৌশল ঠিক করার লক্ষ্যে সর্বস্তরের নেতাদের মতামত জানতে গত মঙ্গলবার থেকে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ধারাবাহিক বৈঠকের প্রথমদিন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সাথে এবং বুধবার  দ্বিতীয় দিনে দলের মধ্যম সারির নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক লন্ডন থেকে যুক্ত হন  দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। এর পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে বিএনপি।

এরপর দলের স্থায়ী কমিটি আগামী শনিবারের (১৮ সেপ্টেম্বর) এক সভায় এসব বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং তা বাস্তবায়নের কৌশল প্রণয়ন করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পদাক এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এম্রান সালেহ প্রিন্স রেডিও তেহরানকে জানান, করোন পরিস্থিতিতির কারণে দীর্ঘদিন দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত থাকার কারণে দলের নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। অপরদিকে দেশে গণতন্ত্রহীনতা, এক দলীয় স্বেচ্ছাচারীতা এবং নিবর্তণমূলক এক দুঃশাসন কায়েম হয়েছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক কৌশল স্থির করতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে কয়েকদিনের ধারাবাহিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন,  আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অংশ নেওয়া বা নির্বাচনী জোট গঠনের চেয়েও এখন জরুরী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা।

রুদ্ধদ্বার বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতারা বলেছেন, ‘আমাদের আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই দাবির আদায়ে বিষয়ে কোনো রকম ছাড় দেওয়া যাবে না। সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। বিভিন্ন স্তরের নেতরা বলেছেন, আমাদের আন্দোলনের বিকল্প নেই। এবারের আন্দোলনে কোনো রকম ব্যর্থ হওয়া যাবে না। পরিকল্পিতভাবে আন্দোলন করতে হবে। বিগত আন্দোলনে আমাদের কী কী ভুল ছিল তা চিহ্নিত করতে হবে। সেই ভুলগুলো এবার কোনো অবস্থায় করা যাবে না।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতারা আরও বলেছেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিকে জনগণের দাবিতে পরিণত করতে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অটুট রেখে ডান-বামসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবীসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ১৯৯০ এর মতো এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জোটগত এবং যুগপৎ আন্দোলন সেই ধরনের আন্দোলন করে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অটুট রেখে বৃহত্তর ঐক্য কীভাবে সৃষ্টি করা যায় তা নিয়ে এখনই কাজ শুরু করে দিতে হবে।

ওদিকে, সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামিলীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে ভুল করেছে, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে বিএনপি জন্য তা হবে আত্মহননমূলক।  

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,  ২০১৮ সালে নির্বাচনের শুরুতে বানচালের দিকে না গিয়ে,  গুরুত্বের সাথে অংশগ্রহণ করলে হয়তো তারা আরও ভালো ফলাফল করতে পারত । #

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

 

ট্যাগ