সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১ ১৮:০৪ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হবার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার।

দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে স্থগিত করে রাখা প্রথম ধাপের দ্বিতীয় কিস্তির ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। তবে এর মধ্যে ৪৫ টি  ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা ভোট ছাড়াই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়ে বসে আছেন।  

এছাড়া আজ ষষ্ঠ ধাপে ৯টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হছে। এখানেও তিনটি পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন প্রার্থী বিনা ভোটে বিজয়ী হয়েছে।

প্রথম ধাপের এ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে আছে প্রায় ছয় মাস আগে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, এ নির্বাচনে বিনা ভোটে জয়ের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। স্থানীয় নির্বাচনের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ ১৪৯ জন ভোট ছাড়াই জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। ৭২টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এ ক্ষেত্রে গতবারের মতোই শীর্ষে রয়েছে বাগেরহাট। বাগেরহাটে ৩৯টি ইউপিতে এ ঘটনা ঘটেছে। গতবারের নির্বাচনেও বাগেরহাট এ ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল। এ ছাড়া বরিশালে ১৪টি, পটুয়াখালীতে দুটি, পিরোজপুরে চারটি, ভোলায় সাতটি, গাজীপুরে দুটি ও চট্টগ্রামে চারটি ইউপিতে বিনা ভোটে   চেয়ারম্যান বিজয়ী হবার  ঘটনা ঘটেছে। 

চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও সাধারণ সদস্য পদে ৬৮ জন এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য পদে আটজন একইভাবে বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন থেকে সরে এসেছেন বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন এক হাজার ৮০ জন। তাঁদের অনেকের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোরপূর্বক নির্বাচন থেকে সরানোর অভিযোগ আছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রথম এই ধাপে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অংশ নিয়েছে মাত্র ১১টি। বিএনপিসহ নিবন্ধিত বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীকে অংশ না নেওয়ার ঘোষণায় সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে বেশ কিছু ইউপিতে বিএনপির প্রার্থীরাও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর আগে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নবম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২১২ জন চেয়ারম্যান বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারের অনাগ্রহ প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ ওার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাহ এমপি রেডিও তেহরানকে বলেন, এখন যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাতে জনগণ হতাশ। এর আগে, শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ইউপি নির্বাচনকে নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু করা আহ্বান জানিয়েছে। 

বিবৃতিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনে সহিংসতা, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভোট দাতাদের আস্থা নষ্ট করে এবং ভোটদানে নিরুৎসাহিত করে। বিবৃতিতে তারা জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে তার জন্য নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ও সর্বোচ্চ উদ্যোগ কামনা করেন। ওদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী  হওয়া এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারের অনাগ্রহকে  গণতন্ত্রের জন্য অশনি সঙ্কেত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।  

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো যে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উৎসবমুখর নির্বাচন হতো আমরা তো আর সেই নির্বাচন ফিরে পাবো না। এখন মানুষের ভোট দেয়ার আগ্রহ নেই। ভোট কেন্দ্রগুলো থাকে খালি। দীর্ঘদিন ধরে এরকম ভোটের সংস্কৃতিতে মানুষ এখন হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি  মনে করেন,  এখন দেশে নির্বাচন না হলেও সমস্যা নেই। দেশে যে ধরনের নির্বাচন হচ্ছে এই ধরনের নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনেরও কোনো দরকার নেই। সরকার প্রশাসকে দিয়েই এসব নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপিতে কয়েক ধাপে ভোট  গ্রহণ করা হচ্ছে।  গত ৩রা মার্চ প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউপির ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে ২১শে জুন ২০৪টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে  কোভিড পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৬৭টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়। প্রথম ধাপে স্থগিত ১৬৭টি ইউপির মধ্যে ১৬০টিতে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

ট্যাগ