সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ১৮:৪২ Asia/Dhaka

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো নদীমাতৃক বাংলাদেশেও পালিত বিশ্ব নদী দিবস। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ‘মানুষের জন্য নদী’। নদী সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববার পালন করা হয় বিশ্ব নদী দিবস।

বাংলাদেশে নদী ও প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষায় সোচ্চার রয়েছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদি সংগঠন। এ রকম  ৭০টির বেশি সংগঠন, উদ্যোগ ও আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ব নদী দিবস উদযাপন পরিষদ গতকাল (শনিবার) ‘অনলাইন মার্চ ফর রিভারস’ কর্মসূচি পালন করেছে।

এছাড়া,পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস এর উদ্যোগে বাংলাদেশের ৫১ টি স্থানে নদী বাঁচাও বাংলাদেশ বাঁচাও,বাংলাদেশের নদী বাংলাদেশের প্রাণ,দেশ বাঁচাতে নদী বাঁচান বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে নদী রক্ষায় পদযাত্রা, নদী ভ্রমণ, মানববন্ধন ও র‍্যালি সহ নানান কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি  পালিত হয়।  

উল্লেখ্য, দূষণে-দখলে মৃতপ্রায় নদ-নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ২৫ বছর মেয়াদি ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সারাদেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৪৯। ২০১৯ সালে নদী কমিশনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নদ-নদীর অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করা হয়েছিল। তখন সারাদেশে দখলদারের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০। উচ্ছেদও করা হয় ১৮ হাজার ৫৭৯টি দখল। এরপরেও ওই বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে সারাদেশে নতুন দখলদারের সংখ্যা পাঁচ হাজার বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী দখল-দূষণের দায়ে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়ার আইন থাকলেও এখন পর্যন্ত কারও দণ্ড হয়নি। হাইকোর্ট নদীকে 'জীবন্ত সত্তা' হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও প্রাণ পাচ্ছে না নদী। অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য বছরব্যাপী ব্যাপক কার্যক্রম (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) ঘোষণার মধ্যেও থামছে না দখল।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এএসএম আলী কবীর সেরনিয়াবাত গনমাধ্যমকে বলেছেন, এখন যে দখল-দূষণ দেখছেন, তা কয়েক দশক ধরে চলছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন মাত্র সাত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে। নতুন করে কেউ দখল ও দূষণ করতে পারছে না। পুরোনো দখলদারদের ইতোমধ্যে খবর হয়ে গেছে।

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বর্তমানের নদী রক্ষা কমিশনের হাত আছে, হাতিয়ার নেই। আমাদের কাজ করতে হয় জেলা বা উপজেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে। তাদেরও নানা কাজ থাকে। নদী কমিশনের নিজস্ব জনবল থাকলে পরিস্থিতির আরও দ্রুত পরিবর্তন সম্ভব হতো।

পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'সরকার যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা রাখার দায়িত্ব সরকারের। সরকার চালান ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় সরকার চালান রাজনৈতিক নেতা ও মাস্তানরা। নদীও দখল করে রেখেছে তারা। তাহলে কে কাকে উচ্ছেদ করবে?' তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, বলেন, 'আমাদের দেশে নীতি, আইন, পরিসংখ্যান সব আছে। কিন্তু প্রয়োগ নেই।'#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ