সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১ ০১:০৫ Asia/Dhaka
  • মুহিবুল্লাহ
    মুহিবুল্লাহ

বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ (৫০) নিহত হয়েছেন। তিনি আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আজ (বুধবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। মুহিবুল্লাহ এফডিএমএন ক্যাম্প-১ ইস্টের ব্লক-ডি ৮-এ বসবাস করতেন।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কুতুপালং ১ নম্বর ক্যাম্পের ডি ব্লকে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর ওপর গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরেক রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, এশার নামাজের পর নিজ অফিসে অবস্থানকালে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা তাকে লক্ষ্য করে মোট ৫ রাউন্ড গুলি করে। এতে তিন রাউন্ড গুলি মুহিবুল্লাহর বুকে লাগলে তার মৃত্যু হয়।”

নিহত মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।

মুহিবুল্লাহ ১৯৯২ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তখন থেকেই তিনি টেকনাফ অঞ্চলে বসবাস করে আসছিলেন। প্রথমে তিনি ১৫ জন সদস্য নিয়ে গড়ে তোলেন ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানরাইটস’ বা এআরএসপিএইচ। স্থানীয় বাংলাদেশি মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ গড়ে তুলেন মুহিবুল্লাহ। ধীরে ধীরে মুহিবুল্লাহ শীর্ষস্থানীয় পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার একজন হয়ে ওঠেন।

রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশে মুহিবুল্লাহ

জাতিসংঘ মহাসচিবসহ যত বিদেশি প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে মুহিবুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের সাক্ষাৎ করানো হয়েছে। এই মুহিবুল্লাহই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১৭ দেশের যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২৭ প্রতিনিধি সাক্ষাৎ করেন- সেখানেও যোগ দিয়েছিলেন মুহিবুল্লাহ।

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গার মহাসমাবেশ করে তাক লাগিয়ে তিনি। এত বড় একজন নেতাকে কে বা কারা, কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে এপিবিএন ও পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ