অক্টোবর ০৪, ২০২১ ২১:৪০ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অস্থিরতা তৈরির জন্য মিয়ানমার থেকে বিভিন্নভাবে অস্ত্র আসছে।

রবিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  রোহিঙ্গা  নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলেন, “এই ধরনের মারামারি আপনারা আগেও দেখেছেন। মিয়ানমার থেকে বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিবেশ অস্থির করার জন্য এখানে অস্ত্র আসছে। অস্ত্র নিয়ে তাদের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য বিভিন্ন গ্রুপের মারামারিও দেখেছেন।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দাবী করেন, “আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে ভালো কাজ করছে বলেই আইনশৃঙ্খলা এখনও সঠিক রয়েছে। কক্সবাজার একটা পর্যটন এলাকা, সেখানে লাখ লাখ পর্যটক যাচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে বলেই সব কিছু ভালো অবস্থায় আছে।”

চার বছরে ১১০ খুন

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির (বিপিও)নামের একটি গবেষণা সংস্থা   সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে,  কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে গত চার বছরে অন্তত ১১০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

কেবল খুনোখুনি নয়, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, মাদক চোরাচালানসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে দিন দিন বাড়ছে বলে নানা পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার পর রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পারিবারিক কারণে রোহিঙ্গাদের বেশ কয়েকটা খুনের ঘটনা আমরা দেখেছি। আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণেও খুন হয়ে থাকে। এ ছাড়া খুনোখুনির পেছনে আরও অনেকগুলো কারণ আছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও বিপিওর পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যত দেরি করবে, খুনসহ নানা রকম সমস্যা তত বাড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে মিয়ানমার সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে এ সমস্যার সমাধান করা।

পর্যটননগরী কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানকার একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ। এসব গ্রুপের তৎপরতা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।

মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যার পাঁচ দিন পার হলেও হত্যাকান্ডের সঙ্গে কারা সংশ্লিষ্ট সে  ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রবিবার  পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে ৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের মধ্যে রিমান্ডে রয়েছে ২ জন। বাকি ৩ জন কারাগারে। মুহিবুল্লাহ খুনের পর ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। একাধিক সূত্র বলছে, বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয়। তাদের পেছনে থেকে ইন্ধন দিচ্ছে মিয়ানমারসহ একাধিক রাষ্ট্র। এমনকি সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে সক্রিয় রাখতে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও আইন প্রয়োগকারী একাধিক সংস্থার অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।##

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

 

 

ট্যাগ