অক্টোবর ১৪, ২০২১ ১৮:৫৪ Asia/Dhaka
  • দশম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন: তৃতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা

দশম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সারাদেশে এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১০ টি পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ নভেম্বর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৮৭তম বৈঠকে নির্বাচনের এ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশনের সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার তফসিল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এসব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মনোনয়ন দাখিল হবে ২ নভেম্বর। বাছাই ৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ১১ নভেম্বর। ভোট অনুষ্ঠিত হবে  ২৮ নভেম্বর।ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ৩৬৯ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করেছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ নভেম্বর ।

প্রসঙ্গত, দেশে চার হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বাকিগুলো মামলা জটিলতার কারণে নির্বাচন আটকে রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে নয় বার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে প্রথম ইউপি নির্বাচন এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে নবম ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৬ সালের ৭১২টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ৫৪ জন।  এবারের করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দশম পর্বে প্রথম ধাপে ভোটগ্রহণের জন্য গত ৩ মার্চ দেশের ১৯ জেলার ৬৪ উপজেলার ৩৭১ ইউপিতে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

এবারে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৭৩ জনএছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৮ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৬৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এর পর প্রথম ধাপে স্থগিত ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়  ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ (সোমবার)এবারও ভোট হবার আগেই বাগেরহাট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৪৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাগেরহাটে ৬৬টি ইউপির মধ্যে ৩৮টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। বাকি ২৮ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে একের পর এক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষক ও ‍সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল যেমনই হোক না কেন আগে এই নির্বাচনগুলোতে ভোটাররা প্রচুর উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে অংশ নিতেন। কিন্তু এখন ধরেই নেয়া হচ্ছে, সরকারি দলের টিকিটে যিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন, তিনিই জিতবেন। ফলে ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ভোটপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতি ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছেনিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারার জন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন আছে বলেই ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে।##

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতানর/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

 

 

 

 

 

 

ট্যাগ