অক্টোবর ১৮, ২০২১ ২১:৪৪ Asia/Dhaka
  • জি এম কাদের
    জি এম কাদের

বাংলাদেশের সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার পক্ষে কথা বলায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে আওয়ামী লীগের বহিষ্কার করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রধর্ম মানি না বলে সংবিধানের শপথ‍ ভঙ্গ করেছেন। তাঁর উচিত পদত্যাগ করা।’

আজ (সোমবার) জাপা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে দলের টাঙ্গাইল জেলার নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জি এম কাদের এ কথা বলেন। জি এম কাদের বলেন, ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রেখেছে। তাই আওয়ামী লীগের উচিত দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ওই প্রতিমন্ত্রীকে বহিষ্কার করা। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলে ওই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

জি এম কাদের আরও বলেন, দেশের ৯২ ভাগ মুসলমানের মনের আশা পূরণ করতেই পল্লিবন্ধু এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষণা করেন। এর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মেনে নেবে না। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এরশাদকে কটূক্তি করে জঘন্য কাজ করেছেন ওই প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিয়ে কটূক্তি করে গর্হিত কাজ করেছেন। অবশ্যই তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

মতবিনিময় সভায়  রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, শক্তি থাকলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করে দেখান। আমাদের শক্তি থাকলে আমরা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখব। জাতীয় পার্টি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।’

সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেছেন, সামরিক শাসকরা ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার মূল আদর্শকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে যে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান বাংলাদেশকে দিয়েছিলেন আমরা শিগগিরই সেটাতে ফিরে যাব।’

তিনি বলেন, ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হতে পারে না, এটি আমি বিশ্বাস করি না। আমরা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফিরে যাব। আমরা সেই বিলটি সংসদে প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনার) নেতৃত্বে পাস করে নেব।’

তার ওই বক্তব্যের পর জাতীয় পার্টি, বিএনপি এমনকি তার দলের কোনো কোনো নেতাও তার সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছেন, কেউ তার পদত্যাগও দাবি করেছেন।

ডা. মুরাদ হাসান

সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে মুরাদ হাসান বলেন, বিভিন্ন বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়ায় আমাকে নিয়ে নানা কথা হচ্ছে, কেউ কেউ ক্ষমা চেতে বলেছেন! সাবধান হয়ে যান। ক্ষমা চাইলে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কাছে ক্ষমা চাইব। ধর্মান্ধ যারা ইসলাম নিয়ে ব্যবসা করে তাদের কথায় ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। সংসদ সদস্য হিসেবে সংবিধান নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার আছে।’

সমালোচকদের তার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুরাদ হাসান বলেন, ধর্মের নামে ব্যবসা বাংলার মাটিতে আর চলবে না। ইসলাম নিয়ে ফতোয়া চলবে না। একাত্তরের দালালরা আমাকে নিয়ে বিরোধিতা করে কুশপুত্তলিকা দাহ করে। আমাকে কেউ দাবায় রাখতে পারবে না, সাহস থাকলে সামনে এসে কথা বলুন। বাংলার মাটিতে এমন শক্তি জন্ম হয়নি যে আমাকে দাবায় রাখতে পারে। এদেশের যত ইতিহাস তা বঙ্গবন্ধু ও তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।’

আজ (সোমবার) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির স্বাধীনতা হলে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।#   

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

ট্যাগ