অক্টোবর ২০, ২০২১ ২১:৪৯ Asia/Dhaka
  • কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখেন ইকবাল হোসেন: পুলিশ সুপার

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরিফ রেখে গদা কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাওয়া যুবকের নাম ইকবাল হোসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ আজ (বুধবার) জানান, ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

এর আগে মণ্ডপে কুরআন শরীফ রাখার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, 'আমরা অকল্পনীয়ভাবে ভিডিওটি পেয়েছি। ভিডিও দেখে যে কুরআন শরীফ রেখেছেন তাকে শনাক্ত করা গেছে। শনাক্তকারীকে ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।’

তিনি জানান, ‘গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার কথা জানিয়ে ৯৯৯ কল করেন স্থানীয় ইকরাম হোসেন। ফোন প্রাপ্তির কয়েক মিনিটের মধ্যে সিভিল পোশাকে সিএনজি অটোরিকশায় করে উপস্থিত হন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল আজীম। ওই ঘটনায় সরাসরি লাইভ করেন স্থানীয় ফয়েজ আহমেদ। তিনি প্রবাসে ছিলেন এখন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী। লাইভ প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়।’

পুলিশ সুপার বলেন, ওই সময় ওসি ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানাতে থাকলে ফয়েজ ওসির পরিচয় লাইভে দেন এবং কুরআন শরীফ অবমাননার কথা বলে প্রতিবাদ জানানোর কথা বলেন। এই ভিডিও বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, '৯৯৯ এ ফোন করা ইকরাম সারারাত পূজামণ্ডপের আশেপাশে অবস্থান করেছে এবং ইকবালকে পূর্ব নানুয়ার পাড়ে গদা নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।'

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইকবাল হোসেন ভবঘুরে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগামীকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে ফারুক আহমেদ জানান।

বই জাতীয় কিছু হাতে এক যুবককে দেখা যাচ্ছে

এর আগে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল যে, কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির পাড়ের দর্পন সংঘের অস্থায়ী ওই পূজামণ্ডপে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। তবে কাছে বসানো দারোগাবাড়ী শাহ আব্দুল্লাহ গাজীপুরী (রহ.) এর মাজার এবং দীঘির পাড়ের একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে এক যুবককে রাত ২টার পর মাজার থেকে বেরিয়ে মণ্ডপের দিকে যেতে দেখা যায়, তখন তার হাতে বই জাতীয় কিছু ছিল। এরপর ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তাকে পূজামণ্ডপের দিক থেকে ফিরে আসতে দেখা যায় আরেক ভিডিওতে, তখন তার হাতে ছিল একটি ‘গদা’।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ভোরে ওই পূজামণ্ডপে থাকা হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন রাখা ছিল। তখন হনুমানের মূর্তির হাতে থাকা গদাটি পাওয়া যায়নি।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন গত বুধবার ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন দেখা যায়। এরপর কুরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা করতে যাওয়া একদল ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখানে নিহত হন চারজন। পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় নিহত হন দুজন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দেশের আরও অনেক এলাকায় হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

ট্যাগ