অক্টোবর ২১, ২০২১ ১৯:৪৬ Asia/Dhaka

পাপুয়া নিউগিনিকে (পিএনজি) ৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে খেলা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এর আগে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ রানে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল লাল-সবুজের দল।

আজ (বৃহস্পতিবার) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ দল ৭ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৮১ রান টাইগাররা। জবাবে নিউগিনি ব্যাট করতে নেমে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভার ৩ বল খেলে সংগ্রহ করে ৯৭ রান।

পিএনজির এই ধ্বসের শুরুটা হয় সাইফউদ্দিনের হাত ধরে। নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় ওভারে এই অলরাউন্ডার ফেরান লেগা সিয়াকাকে (৫)।

এরপর পিএনজি অধিনায়ক আসাদ ভালার (৬) উইকেট তুলে নেন তাসকিন। তবে এতে তাসকিনের যতটা না অবদান, তার থেকে ঢের বেশি সোহানের। চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচ নেন এই উইকেটরক্ষক। পরের ওভারে দৃশ্যপটে সাকিব। জোড়া আঘাতে বিদায় করেন চার্লস আমিনি (১), সেসে বাউকে (৭)। পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে ১৭ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে পাপুয়ানিউগিনি। সাকিব নিজের তৃতীয় শিকার বানান সিমন আতাইকে (০)।

সতীর্থদের সফলতার ভিড়ে শেখ মেহেদী হাসান উদযাপনের উপলক্ষ পান নরম্যান ভানুয়াকে (০) তুলে নিয়ে। এতে ২৪ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে পাপুয়া নিউ গিনি। সাকিবের চতুর্থ শিকার হিরি হিরি। নিজের কোটার ৪ ওভার শেষে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন টাইগার অলরাউন্ডার। অষ্টম উইকেট জুটিতে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান কিপলিন ডোরিগা আর চাদ সোপার। দুজনের ২৫ রানের পার্টনারশিপের মাথায় সোপান ১১ রান করে ফেরেন সাইফদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে।

শেষদিকেও ডোরিগা ৪৬ রান ছাড়া পাপুয়ানিউগিনির আর কোন ব্যাটসম্যান প্রতিরোধ গড়তে না পারলে তারা গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৭ রানে। এতে ৮৪ রানের রেকর্ডগড়া জয় পায় বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে সাকিব আল হাসান সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। ২ উইকেট মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের।

ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান

এর আগে নিজেদের ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ নাঈম। তবে নাঈমের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উপরে ওঠা বল জমাতে পারেননি পাপুয়া নিউগিনির উইকেটরক্ষক। দ্বিতীয় বলেও ছক্কার আশায় ক্যাচ তুলে দেন নাঈম। কাবুয়া মোরেয়ার লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ডিপ স্কয়ার লেগে পাঠান নাঈম। বেশ উপরে ওঠা বল দৌড়ে গিয়ে মুঠোয় জমান সেসে বাউ। রানের খাতাও খুলতে পারেননি এই তরুণ ওপেনার।

শুরুতে উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই চাপ অল্প সময়ের মধ্যেই কাটিয়ে ওঠে। শুরুর থাক্কা সামলে প্রতিরোধ গড়েন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। দুজনে মিলে গড়েন ৫০ রানের জুটি। সাকিবের সঙ্গে ভালো ইনিংস খেলার আশা জাগান রানের খরায় থাকা লিটন। তবে এবারও পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। স্লগ সুইপে ছক্কার হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেন ডানহাতি এই ওপেনার।

অষ্টম ওভারে আসাদ ভালার অফ স্টাম্পের একটু বাইরের বল স্লগ সুইপ করেন লিটন। টাইমিং ঠিক রাখতে পারেননি। দৌড়ে গিয়ে ক্যাচ নিয়ে নেন সেসে বাউ। ২৩ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ রান করে ফেরেন লিটন।

চারে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকও পারলেন না থিতু হতে। ৮ বল খেলে ৫ রানে বিদায় নেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তবে সতীর্থরা ফিরলেও টিকে ছিলেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। শেষ রানে সাকিবকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন আসাদ ভালা। বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অনে আমিনির হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাকিব। তিন ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিব।

এরপর লড়াই করেন মাহমুদউল্লাহ। মাত্র ২৭ বলে  হাফসেঞ্চুরি করেন। এটি তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি। ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির পর অবশ্য আর টিকতে পারেননি তিনি। পরের বলেই আউট হন তিনি। ২৮ বলে ৫০ রান করে ফেরেন ড্রেসিং রুমে। মাহমুদউল্লাহ ফিরলে শেষ দিকের ব্যাটারদের ওপর ভর করে পিএনজিকে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় লাল-সবুজের দল।

ব্যাট হাতে ৩৭ বলে ৪৬ রান এবং বল হাতে চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ