অক্টোবর ২২, ২০২১ ১৮:১৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কিছু প্রশ্ন এবং অভিযোগ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে  এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী প্রশ্ন তুলেছেন,  কুমিল্লা নানুয়া দীঘিরপাড়ের অস্থায়ী মণ্ডপটিতে  রাত তিনটা থেকে চারটার দিকে কিছু সময়ের বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল  কী কারণে?  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হনুমান মূর্তির কোলের ওপর রাখা পবিত্র কোরআন শরিফটি সরিয়ে নেওয়ার পর কেন ভিডিও করার সুযোগ দিলেন এবং কেন সে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে? এই বিষয়টি সবার কাছে বিরাট প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।

নির্মল চ্যাটার্জী আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজার আগে ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ৬ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার, পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়। প্রতিটি সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকে স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে মতামত দিয়েছেন প্রতিটি সভায় নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।’তাহলে বিভিন্ন স্থানে এতগুলো ঘটনা কিভাবে ঘটলো?

পূজা উদযাপন পরিষদের এ নেতা   আরও বলেন, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামু থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বা হচ্ছে। কোনো কোনো হামলার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। দেশে আইন আছে। প্রকৃতই কোনো ব্যক্তি, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক অপরাধ করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে একজনের কথিত অপরাধে একটি সম্প্রদায়ের ওপর হামলা প্রকারান্তরে এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে দেশান্তরি করার নীলনকশার অংশ বলে সাধারণ হিন্দুরা মনে করে।

পূজা উদযাপন পরিষদ মনে করছে, বিচারহীনতা বা বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি দুষ্কৃতকারীদের উৎসাহিত করছে এবং প্রায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল ঘটনাগুলো ঘটছে।

লিখিত বক্তব্যে নির্মল চ্যাটার্জী বলেন, রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক দোষারোপের কারণে প্রকৃত দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও পারস্পরিক আস্থার জন্য সুখকর নয়।

সাম্প্রতিক হামলায় সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্ণ নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য কয়েকটি দাবি করা হয় আজকের সংবাদ সম্মেলনে। ক্ষতিগ্রস্ত সব মন্দির–বাড়িঘর সরকারি খরচে নির্মাণের দাবি করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ব্যবস্থা নিতে দাবি করা হয়।

বিএনপি’র অভিযোগ: ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  আজ অভিযোগ করেছেন,  ‘সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাদেরকে সংঘাত করতে দেখা গেছে তারা সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এখন এগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দৃষ্টি অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করছে সরকার।’

আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও খাবার বিতরণকালে রিজভী বলেন, ‘আমরা একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি, আমার আপনার কোনো নিরাপত্তা নেই। কখন কীভাবে কে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে এটা বলা কঠিন।’এসব হামলার ঘটনায় বিএনপিকে জড়িত করা প্রসঙ্গে  সরকারকে প্রশ্ন করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিচ্ছেন কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা কি ওই স্পটে ছিলেন? বিএনপি নেতাকর্মীদের কি কেউ দেখেছে? তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছেন কেন? যুবদল ছাত্রদল নেতাদের গ্রেপ্তার করছেন কেন? আপনাদের সোনার ছেলেরা তারা এই সংঘাতের সাথে জড়িত এটা গণমাধ্যমে নানা প্রতিবেদনে প্রকাশ হচ্ছে।’ #

পার্সটুডে/এআরকে/২২

 

 

ট্যাগ