অক্টোবর ২৩, ২০২১ ১৭:৪৪ Asia/Dhaka

কুমিল্লায় কুরআন অবমাননা এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার দায়ে বিরোধী রাজনৈতিক মহল, ধর্মীয় সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সকলেই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সরকারের ব্যর্থতা এবং সরকারি দলের উদাসীনতার সমালোচনা করছে। এমনকি আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও দূর্গাপূজায় নিরাপত্তা দিতে সরকারের ব্যর্থতার নিয়ে প্রকাশ্যে বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছে।

দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটে যাবার পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক শক্তি এ কাজ করেছে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য। আর এর পেছনে বিএনপি-জামায়াতের উস্কানি রয়েছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে শ’দুয়েক মামলা দায়ের হয়েছে কয়েক হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে; আর কয়েকশ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে একাধিক।

তবে, দেশের ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এসব ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবি করেছে

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাস দমনের আওতায় এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ বলেছেন, পূজামণ্ডপে হামলা মামলার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হবে।

এদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশ থেকে অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলি সরকারের মদদেই ঘটেছে  এবং সরকার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

দেশব্যাপী সনাতন ধর্মালম্বীদের গণ-অনশন, গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপ ও  মন্দিরে হামলা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গণ-অনশন, গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বানে এবং আয়োজনে রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে আজ শনিবার সকাল ছয়টা থেকে যোগ দিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠন। এছাড়া এ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। মুক্তিযুদ্ধের দল সরকারে থাকা অবস্থায় এরকম সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তাগণ।

ইতোমধ্যে, জাতীয় পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ৪ নভেম্বর শ্যামাপূজায় দীপাবলি উৎসব বর্জন এবং কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে মন্দিরে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেছে।

বিচার বিভাগীয় কমিটি চায় ইসলামী আন্দোলন

আজ দুপুরে পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহম্মদ রেজাউল করীম দাবী করেছেন, ‘কুমিল্লার একটি মন্দিরে পবিত্র কুরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে এবং ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর স্ট্যাটাসকে ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, এসব ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে।’

ঘটনা সম্পর্কে দলীয় পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সৈয়দ মোহম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সাধারণ চরিত্র নয়। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস এবং মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষা এ ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। ঘটনার সূত্রপাত থেকে পরবর্তী প্রত্যেকটি ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ছাপ অতি স্পষ্ট।'

কুমিল্লার ঘটনার পরে জনরোষ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, ‘বেসামরিক বাহিনীগুলোকে এ ধরনের গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত করার কথা। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি, ৫০ বছরের স্বাধীন একটি দেশের বেসামরিক বাহিনী গণবিক্ষোভ দমনে গুলি করার মতো চরম সিদ্ধান্ত সহজেই নিয়ে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, সরকারি দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুশীল সমাজ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের সব ধরনের নীতি-নৈতিকতা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ধরনের আগবাড়ানো প্রতিক্রিয়ালশীলতায় এই ঘটনার অন্তরালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নোংরা কৌশলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।’

চরমোনাইয়ের পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পরে বাংলাদেশের এক শ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও সুশীল সমাজ যেভাবে ঘটনাকে কেবলমাত্র সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে, তা হতাশাজনক। দেশের ইতিহাস, বাঙালির চরিত্র ও ধর্মপ্রবণতা নিয়ে তাদের এমনতর ভুল ব্যাখ্যা হয়তো মূর্খতা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।'#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

 

ট্যাগ