অক্টোবর ২৩, ২০২১ ২৩:৩৮ Asia/Dhaka
  • ১৮ অক্টোবর সৈকতকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়
    ১৮ অক্টোবর সৈকতকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় র‍্যাবের হাতে আটক হওয়া সৈকত মণ্ডল (২৪) রংপুর কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগ বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। হামলার ঘটনার পর গত ১৮ অক্টোবর তাকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, আমরা যখনই তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট ও কমেন্টস করার অভিযোগ পেয়েছি, সঙ্গে সঙ্গে তাকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করেছি। একই সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের বিষয়টি জানিয়েছি।”

পীরগঞ্জে হামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে সিজার বলেন, এটিও প্রশাসন তদন্ত করে জানাবে। তবে আমরা শুনেছি, সৈকত ঘটনার আগ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসব নিয়ে লেখালেখি করত। এটি আমাদের ছাত্রলীগের রাজনীতির পরিপন্থী। এ কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন জানান, চার বছর আগে ২০১৭ সালের ৮ মে দর্শন বিভাগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে সহসভাপতি পদে ছিলেন সৈকত মণ্ডল। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোবর তাকে ছাত্রলীগের কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই তার।”

মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সৈকত মন্ডলের বাড়ি পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে। সম্প্রতি এলাকায় অবস্থানকালে তিনি দলীয় আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হন। বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে উসকানি ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট ও মন্তব্য করতেন। তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়ায় ১৮ অক্টোবর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।”

এদিকে, উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার অন্যতম হোতা অভিযোগে সৈকত মন্ডল ও সহযোগী রবিউল ইসলামকে টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। শনিবার দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গ্রেফতারের তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

সাংবাদিকদের খন্দকার আল মঈন বলেন, ফেসবুকে ফলোয়ার প্রায় তিন হাজার। ফলোয়ার আরও বাড়াতে ও ব্যক্তিগত ইমেজকে প্রচার করতেই ‘এ মুহূর্তে গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া সংবাদ, হিন্দুদের আক্রমণে এক মুসলিমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে’ মর্মে উসকানিমূলক পোস্ট দেন সৈকত মন্ডল। সেই পোস্টের সূত্র ধরে হামলাস্থলের ঠিক কাছাকাছি একটি মসজিদ থেকে মাইকিং করেন সহযোগী রবিউল ইসলাম। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পীরগঞ্জে ঘটনায় তারা সংশ্লিষ্টতার তথ্য দিয়েছেন সৈকত মন্ডল (২৪) ও রবিউল ইসলামকে (৩৬)।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর রাতে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর মাঝিপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রামটির ১৫টি পরিবারের ২১টি বাড়ির সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে অন্তত ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এতে গত ছয় দিনে ৫৮ জন গ্রেফতার হয়েছেন।#

পার্সটুডে/এআর/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ