অক্টোবর ২৪, ২০২১ ১৬:৫১ Asia/Dhaka
  • আনিসুল হক
    আনিসুল হক

বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো আশ্বস্ত করে বলেছেন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ লুটপাট, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ইতোমধ্যে অপরাধীরা  ধরা পড়েছে, তদন্তও চলছে।

আজ (রবিবার) রাজধানীতে বিচারক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে বিচারপতিদের গুরুত্ব অনেক। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেক মামলা লেপের তলায় আটকে ছিল, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এই মামালাগুলোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগামী বছরে ৬ লাখ মামলা নিরসন করা হবে।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে বিচারপ্রাপ্তির সংস্কৃতিতে ফিরে এসেছি।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশেকে অস্থিতিশীল করতেই সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা করা হয়েছে। এর সাথে জড়িতরা যে দলেরই হোক না কেনো তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কেউ যদি ব্যক্তি স্বার্থে অন্যায় করে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

ড. হাছান মাহমুদ

সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দায়ী

কুমিল্লাসহ সারাদেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য যে কুরআন রেখেছে সে, যাচাই-বাছাই ছাড়া যারা পরিস্থিতি তৈরি করল তারা এবং একইসঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, যে কুরআন রেখেছে, সে দায়ী, যে করিয়েছে, সেও দায়ী। যারা পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই না করে পরিস্থিতি তৈরি করল, তারাও দায়ী। একইসঙ্গে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দায়ী।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্পাদক ফোরামের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফেসবুকে ফেক (ভুয়া) পোস্ট দেওয়ার জন্য আমাদের দেশে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর দায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আমি মনে করি, এটি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে।

তিনি বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) আপলোড না হতো, তাহলে দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। পীরগঞ্জের ঘটনাও সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ঘটেছে।

সরকার সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগেও বিভিন্ন ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। তবে সবকিছুই এমনভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে সেটি খারাপ কাজে ব্যবহার করা না হয়, যাতে স্বচ্ছতা থাকে।

ফেসবুকে ফেক পোস্ট নিয়ে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, সারাবিশ্বেই এটি ভাবনার বিষয়। এ সপ্তাহেই আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিকেট করব। একইসঙ্গে আইএমইডির সঙ্গেও যোগাযোগ করব।

সৈকত মণ্ডলকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি

রংপুরে আটক সৈকত মণ্ডল ছাত্রলীগের নেতা

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটক সৈকত মণ্ডল (২৪) কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্রলীগের কমিটির ১ নম্বর সহ-সভাপতি। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তোলপাড়।

এদিকে কারমাইকেল কলেজ শাখার পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সৈকত মণ্ডলকে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ার ঘটনার এক দিন পর ১৮ অক্টোবর তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও এটি তা মাত্র গতকাল  শনিবার প্রচার পেয়েছে।

আটকের পর সুমন আহামেদ নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এখন তার কঠিন শাস্তি হিসাবে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং আরও বলবে আগে বিএনপি জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিল।’

ক্ষোভ জানিয়ে ফারুক ঢালী লিখেছেন, ‘বিভিন্ন মণ্ডপে এই মণ্ডলরাই হামলা করেছে। নোংরা আর হিংসাত্মক রাজনীতির কারণে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।’

উদ্বেগ প্রকাশ করে সাইয়েদ ভুইয়া লিখেছেন, ‘তাহলে প্রমাণিত হলো বার বার কারা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছাড়াচ্ছে!"#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ