অক্টোবর ২৭, ২০২১ ২০:১৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের মসৃণ পথচলা নিশ্চিত করতে ভোট স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হতে হবে।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। বর্তমান আওয়ামী লীগ

সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

ওদিকে,  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা আবারো আগুন সন্ত্রাস, ককটেল আর পেট্রোল বোমা নিয়ে ভাবছে। ছক বানাচ্ছে, নীলনকশা করতে যাচ্ছে; এভাবে তারা ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চাচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আজ ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন  বলেন, ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক ভোট নিশ্চিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশ নেবে বলে যুক্তরাজ্য আশা প্রকাশ করছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কীভাবে হবে সেটি বাংলাদেশের সংবিধানে আছে। সংবিধানের নিয়ম মেনে বাংলাদেশ নির্বাচন করবে। বিদেশি কেউ এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবে না। আমরা কেবল বন্ধু হিসেবে পাশে থাকতে পারি। বন্ধু হিসেবে আমরা চাই নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক।’

আওয়ামী লীগের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়: ফখরুল

এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

গত রোববার (২৪ অক্টোবর) সিলেট সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে  মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে তো নির্বাচনের কোনো পরিস্থিতি, পরিবেশ নেই। এখানে অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার, যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা নির্বাচন নির্বাচন খেলা করে গত দুটি টার্ম জোর করে ক্ষমতায় আছে। আমরা তখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, যখন নির্বাচনের সত্যিকার পরিবেশ তৈরি হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্যই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার, নির্দলীয় সরকার, তার অধীনে নতুন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় আমরা অবশ্যই অংশগ্রহণ করব। সেজন্যই আমরা আন্দোলন করছি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে পর্যুদস্ত করার অপকৌশল হিসেবে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, মন্দির ভাঙাসহ প্রতিটি ঘটনায় সরকারি দল জড়িত। রংপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতায় ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীনরা জড়িত। তারা স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। অথচ যেকোনো ঘটনায়ই বিএনপির বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রকৃত দোষী যাতে শাস্তি না পায় তার জন্য এক মামলায় অজ্ঞাতনামা হাজারজনকে আসামি করা হয়।

তিনি বলেন, সরকারের নানান ব্যর্থতা, অপকর্ম ঢাকতেই বিভিন্ন মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হচ্ছে। বেআইনি ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নিজেরা সহিংসতা করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। কারাগারে অন্তরীণ থাকা নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা হচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো ধর্মের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ নিজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিএনপির উপর দায় চাপায়। তার কারণ একটাই, বিএনপিকে দমাতে হবে। না হলে অবৈধ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে পারবে না।

উন্নয়নে বাধা তৈরি করছে চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক শক্তি: কাদের

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আজ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক আলোচনা সভায় উল্লেখ করেছেন, দেশের উন্নয়নে বাধা তৈরি করছে চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক শক্তি। গত ১২ বছরে কোনো ঘটনা ঘটল না কিন্তু এবার নির্বাচনে সামনে রেখে এই ধরনের ঘটনা ঘটল।

সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে হামলার বিষয়টি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন সাম্প্রদায়িক শক্তি যারা একাত্তরে বাংলাদেশ চায়নি; তারা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা আবারো আগুন সন্ত্রাস, ককটেল আর পেট্রোল বোমা নিয়ে ভাবছে। ছক বানাচ্ছে, নীলনকশা করতে যাচ্ছে; এভাবে তারা ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চাচ্ছে। এই সাম্প্রদায়িক শক্তির নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হচ্ছে

আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সাম্প্রদায়িক হামলা: মির্জা আব্বাস

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশবাসীকে ভয় পেতে শুরু করেছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ (বুধবার) সংগঠনটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার মনে করে আওয়ামী লীগকে তাড়ানোর জন্য বিএনপি যথেষ্ট। এই কারণে তারা বিএনপিকে ভয় দেখাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এই মন্দিরে হামলা কিংবা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্ট করা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সরকারের উদ্দেশ্য  হলো- বিএনপিকে জাতির সামনে একটা সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের আগামি  নির্বাচনকে প্রভাবিত করা।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৭

 

ট্যাগ