অক্টোবর ২৮, ২০২১ ১৮:৪৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশের ক্ষমাতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক -সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার কখনো খালি মাঠে গোল দিতে চায় না,সরকার চায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, আর খালি মাঠে গোল দিতে আওয়ামী লীগ অভ্যস্তও নয় ৷

এর আগে দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী মাঠ  খালি করতে সরকার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলায় জড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার(২৮ অক্টোবর) ওবায়দুল কাদের তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে বিএনপির  বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন,  বিএনপি নেতারা তাদের ব্যর্থতা আড়াল করতে ও কর্মী সমর্থকদের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য এসব বক্তব্য দিচ্ছেন। ১৫ই ফেব্রুয়ারির খালি মাঠে নির্বাচনে কথা বিএনপি ভুলে গেলেও জনগণ এখনও ভুলেনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবারও বলেন, নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নয়, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিএনপি কর্মসূচির নামে সন্ত্রাস ও জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। সভা-সমাবেশ সকলের সাংবিধানিক অধিকার কিন্তু সমাবেশের অনুমতি না দিলে বিএনপি বলে সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না,আর অনুমতি দিলে হামলা,সন্ত্রাস সৃষ্টি করে জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করে।

পূজা মণ্ডপে হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের মামলা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়-এমনটি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কে কোন দল করে সেটা দেখে নয়, ভিডিও ফুটেজ দেখেই  চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মাধ্যমে বিএনপি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চেয়েছিল কিন্তু সরকার তা শক্ত হাতে দমন করেছে৷

নির্বাচনী মাঠ খালি করতে সরকার ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপিকে মামলায় জড়াচ্ছে: ফখরুল

এদিকে, রাজধানীর পল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ১৫ নেতাকর্মীর দুই দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিনসহ ৯৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযান চালিয়ে তাঁদের ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করে পল্টন থানা-পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে গতকাল (বুধবার) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী মাঠ  খালি করতে সরকার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলায় জড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, “মন্দির ভাঙার ঘটনায় মামলা হয়েছে মোট ৬০টা। আসামির সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৬ জন। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে  বিএনপির ১৮৬৮ জন নেতা-কর্মীকে ।

বিএনপি মহাসচীব বলেন, “এই মামলাগুলো করার একমাত্র উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিএনপিকে হয়রানি করা, তাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা এবং যেহেতু তারা আসন্ন নির্বাচন করতে চায়, সেই নির্বাচনের পূর্বেই যেন বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে মাঠ থেকে একদম সরিয়ে দেওয়া যায় মিথ্যা মামলা দিয়ে, সাজা দিয়ে… এজন্য এই ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সব সময়ে এসব করে এসছে এবং এভাবে তারা রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায়।

সরকার ‘পরিকল্পিতভাবে মাঠ পরিষ্কার করার কাজ করছে’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “গতবার ২০১৮ সালেও নির্বাচনের কিছুদিন আগে থেকে এমনভাবে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা শুরু হল, হাজার হাজার গায়েবি মামলা প্রত্যেকটি নির্বাচনী আসনে; প্রার্থীদেরসহ, তাদের গ্রেপ্তার করা হল, যারা কর্মী মাঠে কাজ করছিলেন তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হল, বিএনপির সকল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে মাঠ একদম খালি করা হল এবং আগের রাতে ভোট করে নিয়ে যাওয়া হল।”

“এবার তার আগে থেকেই এই যে মামলাগুলো দিচ্ছে। সরকার অতিদ্রুত মামলাগুলো শেষ করতে চায়। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, আমাদের মামলাগুলো শেষ করে ফেলবে। তারা তালিকা তৈরি করেছে হোম মিনিস্ট্রি থেকে যে, মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পিত্তি করতে হবে এবং নেতারা ওই ইলেকশন যাতে করতে না পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।”

তবে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কোনো চিন্তাই করছে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সরকারকে যেতে হবে এবং পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার পরে একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। দ্যাটস অল, ফাইনাল।”#

 

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

 

ট্যাগ