অক্টোবর ২৮, ২০২১ ২৩:৫৪ Asia/Dhaka
  • ড. একে আবদুল মোমেন
    ড. একে আবদুল মোমেন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আপত্তিতে বাংলাদেশ পাত্তা দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, বিদেশিরা আমাদের অনেক কিছু নিয়েই আপত্তি করে থাকে। তবে তাদের আপত্তি আমরা গ্রাহ্য করি না।

আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে ইইউ’র আপত্তি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কে কী আপত্তি করল না করল, তাতে আমাদের কী? তারা আপত্তি করলে আমরা তাদের বোঝাব, আমরা আমাদের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এটা করেছি। অনেক লোকে অনেক আপত্তি করে। আপত্তি ওরা করুক, তারা অনেক সময় বকবক করবে। কিন্তু আমরা আমাদের মঙ্গলের জন্য যা দরকার করব।’

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ভর্তুকি ও পদ্মা সেতু নিয়ে বিদেশিদের আপত্তির উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিলে বিদেশিরা অনেক আপত্তি করেছে। আমাদের বড় বড় বন্ধু রাষ্ট্রসহ বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ বলেছিল, আপনারা পারবেন না। এক বছর আইএমএফ আমাদের এফডিআই তুলতে দেয়নি। কিন্তু দেখুন, এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পদ্মা সেতুর কথা বলি, বিশ্ব ব্যাংক আমাদের ওপর ক্ষেপে গেল। কত রকম ঢংঢাং বের করল। পয়সা দেওয়ার আগেই বলে এখানে চুরির মহড়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী তা অগ্রাহ্য করে ফল তাদের দেখিয়ে দিয়েছেন।’

গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইইউ বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওই দিন ব্রাসেলসে বাংলাদেশ ও ইইউ চতুর্থ কূটনৈতিক পরামর্শ সভা শেষে ইইউ বিবৃতিতে জানায়, এ আইনের কিছু বিধানে ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিবৃত উদ্দেশ্যের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নানা পক্ষের আপত্তি, সাংবাদিকদের উদ্বেগের মধ্যে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আইনটি পাস হওয়ার আগে থেকেই এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। 

ইইউ’র বিবৃতি প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা হুঁশিয়ারি দেয়। তারা যে আমার কাছ থেকে কাপড় নেয়, সেটা কিন্তু দয়া বা বাধ্য হয়ে নয়; সস্তা দরে নেয়। বিশ্ব ব্যাংক যে আমাদের টাকা দেয়, এর অর্থ এই নয় যে তারা আমাদের দয়া করেছে। তারা টাকা দেয়, কারণ টাকা না দিলে তাদের চাকরি চলে যাবে।

এ সময় ড. মোমেন দেশের গণমাধ্যমগুলো বিদেশিদের কথায় বেশি হইচই করে বলেও মন্তব্য করেন।

সরকারকে বিব্রত করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মৃত্যু ও ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

ড. মোমেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন মুসলমান। তারা হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন মারা গেছেন। এদের একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যজন পানিতে ডুবে মারা যান।’

‘কাউকে ধর্ষণ করা হয়নি এবং একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংস করা হয়নি। তবে কিছু প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এখন তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলো পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

ড. মোমেন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, কিছু উৎসাহী মিডিয়া এবং ব্যক্তি ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শেখ হাসিনা সরকারকে বিব্রত করার জন্য মূলত ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৃত্যু এবং ধর্ষণের গল্প ছড়াচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকার অর্থ প্রদান করে আসছে এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আয়োজকদের উচিত তাদের মণ্ডপগুলোকে অযত্নে না রাখা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পূজামণ্ডপে কোনো উপাসক বা আয়োজক না থাকা অবস্থায় একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের একটি কপি একটি মূর্তির পায়ের কাছে রেখে যায় এবং অন্য একজন তার একটি ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে দেয়। এটি ক্ষোভের জন্ম দেয়; যা ভাঙচুর এবং লুটপাটের দিকে নিয়ে যায়।’

কুমিল্লা শহরে নানুয়া দীঘির পাড়ে একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার কথিত অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর ওই শহরে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে পরে চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ কয়েকটি জেলায়ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়। নোয়াখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চাঁদপুরে মন্দিরে হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত হন।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। 

ট্যাগ