নভেম্বর ২৬, ২০২১ ১৯:২৯ Asia/Dhaka
  • মাওবাদী গেরিলা
    মাওবাদী গেরিলা

ভারতের ঝাড়খণ্ড পুলিশের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস) দেশে মাওবাদী ক্যাডার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করার অভিযোগে বিএসএফের একজন হেড কনস্টেবলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ানরাও রয়েছেন।

পনের দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সাফল্য পেয়েছে অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড। প্রায় ১০ দিন আগে, ঝাড়খণ্ড পুলিশের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড সন্ত্রাসবাদী ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করার অভিযোগে আধাসামরিক বাহিনী সিআরএফের এক জওয়ান এবং অন্য তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল।     

পুলিশকে উদ্ধৃত করে আজ (শুক্রবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘জনসত্তা’ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিএসএফ হেড কনস্টেবলের নাম কার্তিক বেহেরা, তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। পুলিশ পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে বিএসএফের ১১৬ ব্যাটেলিয়ন চত্বর থেকে চুরি হওয়া গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং ডেটোনেটরও উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান পাঞ্জাবে বিএসএফের ১১৬ ব্যাটেলিয়নে নিযুক্ত ছিলেন।    

অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ানের নাম অরুণ কুমার সিং, যিনি বিহারের বাসিন্দা। অরুণ কুমার সিংও এরআগে ১১৬ ব্যাটালিয়নে মোতায়েন ছিলেন। ‘এটিএস’ এ ছাড়াও,  অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে মধ্য প্রদেশের বাসিন্দা কুমার গুরলাল, শিবলাল ধওয়াল সিং চৌহান এবং হিরলা গুমান সিংকেও গ্রেফতার করেছে।   

অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতারের বিষয়ে, ঝাড়খণ্ড পুলিশের আইজি অমল বেনুকান্ত হোমকার বলেন, আমরা সাপ্লাই চেইন, আন্তঃরাজ্য গ্যাং, পাঞ্জাব, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যে অবৈধ অস্ত্রের লেনদেন খুঁজে বের করতে অভিযান চালাচ্ছি। একটি বড়সড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়া গেছে যারা সন্ত্রাসী ও নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোকে ইনসাস, একে-৪৭ এবং ৯ এমএম রাইফেলের মতো অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে।        

অন্যদিকে, ‘এটিএস’-এর এসপি প্রশান্ত আনন্দ বলেন, আমরা ১৪টি সেমি-অটোমেটিক পিস্তলও উদ্ধার করেছি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বেশির ভাগই দেশীয়। বেশিরভাগ গোলাবারুদ চুরি হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনায় অন্য বিএসএফ জওয়ানদের ভূমিকাও আমরা খতিয়ে দেখছি। অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এর সঙ্গে জড়িত কী না,  সেই বিষয়ে পুলিশের আইজিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা তদন্তের বিষয়। 

পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, গোলাবারুদ চুরির জন্য নথিপত্র জাল করা হয়েছে কী না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রটি বলেছে, আমরা অভিযানের সময় রাউন্ড গুলি চালানোর মিথ্যা নথিপত্র খুঁজছি। এ ছাড়া বিএসএফের যোধপুর ও জয়সলমীর কমপ্লেক্স থেকেও অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। এরসঙ্গে আরও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য জড়িত থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন। #  

পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

ট্যাগ